সিঙ্গাপুর (Singapore) ঘুরে এসে সিঙ্গাপুর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন ভ্রমণ গাইডের অতিথি লেখক শাহীন কবির

১.
অসম্ভব নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলে এখানকার লোকজন, সিগনাল না পড়লে কেউ রাস্তা পার হয় না! এখানকার সিস্টেমই লোকজনকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে ফেলেছে। এয়ারপোর্টে ট্যাক্সি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আলাদা স্টাফ আছে। যাদের ট্যাক্সি লাগবে তারা লাইন ধরে দাঁড়াবে, একটা করে ট্যাক্সি আসবে একজন করে প্যাসেঞ্জার উঠবে, গোটা বিষয়টা নিয়ন্ত্রণ করছে কর্তৃপক্ষ; কল্পনা করতেও কষ্ট হয়!

ভ্যালু হোটেল থমসনে উঠেছি; হোটেলে সময় নষ্ট না করে চলে গেলাম মুস্তাফা সেন্টারে। হোটেল থেকে মুস্তাফা সেন্টার পর্যন্ত যেতে মিটারে বিল এলো ৭ ডলার ৯৪ সেন্ট। ট্যাক্সি ড্রাইভার দশ ডলার নোটের বিপরীতে যখন দুই ডলার দশ সেন্ট ফেরত দিল, তখন মনে হলো সিঙ্গাপুরের এই গল্পই আমি ইতোপূর্বে শুনেছিলাম!

মুস্তাফা সেন্টার (Mustafa Centre) গিয়ে প্রথমে মনে হলো টিএসসিতে এসেছি, আরো সামনে গিয়ে মনে হলো পুরান ঢাকায় এসেছি; আশেপাশের রেস্টুরেন্টগুলোর যেমন বাহারি নাম! গোটা এলাকা বাংলাদেশীদের দখলে; রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি বলে এখানে তাদের মিলনমেলা বসেছে। কি নেই এখানে, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, সিম-রিচার্জের দোকান, দেশে টাকা পাঠানোর সবরকম ব্যবস্থা, এমনকি এখান থেকে টাকা বিকাশও করা যায়! বাংলাদেশীদের প্রাণের মিলনমেলা হিসেবে এটা আলাদা জায়গা করে নিয়েছে, এখানেই এর বিশেষত্ব।

মোস্তফা সেন্টার, ছবিঃ লেখক

এখানে লোকসংখ্যা কম, শহরের সিটি সার্ভিসকে এরা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এখানে কারো হাতে যদি একটি স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট কানেকশন থাকে, তবে যে কেউ যে কোন যায়গায় নিজেই চলে যেতে পারবে; এখানে গুগল ম্যাপে, কোন বাস কোন রোড দিয়ে যাবে, কোন মেট্রোরেল কোন লাইন ধরে যাবে, সব দেখা যায়! বড় তাজ্জব ব্যাপার!

ছেলেমেয়েরা এখানে খোলামেলা চলাফেরা করে, অধিকাংশ মেয়েই ছোট ছোট হাফপ্যান্ট পরে ঘোরে, অনেকের হাতে থাকে সিগারেট! ছেলেরাও সমানতালে হাফপ্যান্ট পরে; এদের দেখে কিছু বাংলাদেশী ছেলেও হাফপ্যান্ট পরা শিখেছে!

২.
অরচার্ড রোডকে (Orchard Road) বলা হয়ে থাকে কেনাকাটার স্বর্গ; অবিশ্বাস্য রকম সৌন্দর্য এই অরচার্ড রোডের! ট্যাক্সি থেকে নেমে হাঁটা দিলাম, রাস্তার দুই পাশে চোখ জুড়ানো ডিজাইনের বিল্ডিং এবং চোখ ধাঁধানো লাইটিং; ঈদ ঈদ মনে হয়! প্রত্যেকটি বিল্ডিংয়ের ডিজাইন অন্য বিল্ডিং থেকে আলাদা, এমন প্রতিযোগিতা আমি দুবাইয়েও দেখেছি।

গোটা অরচার্ড রোডের ফুটপাতে রয়েছে পয়সার বিনিময়ে নানান ধরনের বিনোদন; এক বুড়ো বাঁশি বাজাচ্ছে, যার ভালো লাগছে টাকা দিচ্ছে। এক যুবক ছেলে গিটার বাজিয়ে গান গাইছে, শ্রোতারা টাকা দিচ্ছে। একজন রোবট সেজেছে, বাচ্চারা প্রথমে সাইডে রাখা বাটিতে টাকা দিচ্ছে, এরপর রোবটের সাথে ছবি তুলছে।

জায়গায় জায়গায় মিকি মাউস ও অন্যান্য কার্টুন সাজানো রয়েছে, বাচ্চা থেকে শুরু করে বুড়োরা পর্যন্ত কার্টুনের সাথে ছবি তুলছে; কোন কারণ ছাড়াই অরচার্ড রোডে একটা উৎসব উৎসব ভাব রয়েছে। কিশোর কিশোরী থেকে বুড়ো বুড়ি সবাই এই রোডে সমানে সিগারেট টানছে! দুনিয়ার সব বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর শোরুম এখানে আছে! 

ঘুরেফিরে আবার সেই মুস্তাফা সেন্টার। আজ এই এলাকায় কবরের নীরবতা; আবার এক সপ্তাহ পর জমবে। বেশ কিছু চকলেট আর বাদাম কিনে বের হয়ে ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্টে ডিনার সারলাম। এখানকার বাংলাদেশীরা তুলনামূলক অনেক হেল্পফুল; যার কাছ থেকে মোবাইলের সিম কিনলাম, তার ব্যবহার আশ্চর্যরকম ভালো! 

গতকাল ট্যাক্সি না পেয়ে হেঁটে হেঁটে হোটেলে ফিরেছিলাম, আজ আর সেই সমস্যা নেই; রবিবারে এখানে যা তা অবস্থা হয়! এখনো পর্যন্ত কোন পুলিশ চোখে পড়েনি, পৃথিবীর বড় বড় শহরগুলির এই একই বৈশিষ্ট, বিপদ না হলে এখানে পুলিশ দেখা যায় না! আরেকটা বিষয়, রাস্তা ফাঁকা থাকলেও এখানকার লোকেরা সিগনাল না পড়লে রাস্তা পারাপারের জন্য দৌড় দেয়না; এরা কিছুটা বোকা আছে!

৩.
আমাদের যেমন শহীদ মিনার বা স্মৃতিসৌধ রয়েছে বাংলাদেশের সিম্বল হিসেবে, তেমনি সিঙ্গাপুরের Raffles Place এ রয়েছে অর্ধেক সিংহ আর অর্ধেক মাছের একটি স্কাপচার, ওরা এটাকে বলেন Merlion অর্থাৎ Mermaid ও Lion এর কম্বিনেশন; সারা পৃথিবী এই সিম্বল দিয়েই সিঙ্গাপুরকে চেনে।

Merlion, ছবিঃ লেখক

এর ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে বিখ্যাত জাহাজ বিল্ডিং; এটা হলো মেরিনা বে স্যান্ডস হোটেল! সন্ধ্যার পর এই জায়গার সৌন্দর্য সীমা ছাড়িয়ে যায়; এ সময় লেকে চলাচলরত বোটগুলো এই সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। নানান আলোর খেলার মাঝে নানান রঙের পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত থাকে এই অঞ্চল।

৪.
দুই দিনে ট্যাক্সিতে অনেক অর্থ ব্যায় করার পর কিছুটা সম্বিৎ ফিরে আসাতে মেট্রোরেলের কার্ড কিনেছি। কলকাতাতে যেবার প্রথম মেট্রোতে চড়ি, কম্পার্টমেন্টে ঢুকে দেখি পুরো কম্পার্টমেন্ট ফাঁকা। না দেখে আরাম করে এক লেডিস সিটে বসেছিলাম, কম্পার্টমেন্ট ভরে যাওয়ার পর মহিলারা এসে আমাদের উঠিয়ে দিয়েছিল! এখানেও একই ভুল হয়েছে; নামতে গিয়ে দেখি, এতক্ষণ রিজার্ভ সিটে বসেছিলাম; তবে এবার কেউ উঠিয়ে দেয়নি! মেট্রোতে করেই র‍্যাফলস প্লেসে গিয়েছিলাম, মেট্রোতে করেই মূল শহরে ফিরে এলাম। 

খাবার নিয়ে যে দুশ্চিন্তা করেছিলাম, সেটা দূর হয়েছে; যেখানেই ফুডকোর্ট আছে, সেখানেই ইন্ডিয়ান খাবার আছে, অতএব ঝামেলা নেই! অফিস আওয়ারে এখানকার লোকেদের মধ্যে একটা ত্রস্ত ভাব আছে, হেলেদুলে চলার কারবার এখানে নেই!

এখানকার মানুষের চেহারার মধ্যে কোন বিরক্তি বা অসন্তষ্টির চিহ্ন নেই, সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। ছেলেমেয়েরা খোলামেলা চলাফেরা করলেও তাদেরকে সম্পর্কের বিষয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে; এর কারণ হতে পারে, তাদের এক্সপেক্টেশন্স কম কিংবা তাদের কমিটমেন্ট বেশী! বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের মত রাস্তার মোড়ে এরা কিলাকিলি করে না! 

মেরিনা বে স্যান্ডস সিঙ্গাপুর
মেরিনা বে স্যান্ডস

হোটেলে ফেরার পথে মধ্যবয়স্ক ট্যাক্সি ড্রাইভারের দাঁড়ি আর মাথায় টুপি দেখে জিগ্যেস করলাম তিনি মুসলিম কিনা? বললেন, হ্যাঁ, স্যার। আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ্‌; জবাবে তিনি বললেন, আসসালামু আলাইকুম! আমি অত্যন্ত বিগলিত হয়ে বললাম, ওয়ালাইকুম আসসালাম। তিনি জিগ্যেস করলেন, আমি কোথা থেকে এসেছি? 

তাকে জিগ্যেস করলাম, যেসব মেয়েদেরকে হিজাব পরে চলতে বা কাজ করতে দেখা যায়, তারা কি মুসলিম? তিনি বললেন, হ্যাঁ; তবে যারা হিজাব পরেনা, তাদের মধ্যেও মুসলিম আছে, বলে নিজেই হাসলেন! তিনি জানালেন, শুক্রবারে জুম্মা পড়েন মসজিদে এবং একেক মসজিদে খুতবা একেক ভাষায় হয়; মালয়, তামিল, ইংরেজী ইত্যাদি। 

অল্প সময়েই ট্যাক্সি হোটেলে এসে গেল। নামার আগে তাকে নাম জিগ্যেস করলাম; বললেন ‘রাহমান।’ বললাম, আপনার সাথে কথা বলে আমি অত্যন্ত খুশী, তিনি বললেন, তিনিও অনেক খুশী! ধর্ম বলে একটা ব্যাপার আছে, এটা যেই দেশে বোঝা যায় না, সেই দেশের মাটিতে জন্ম নেয়া একজন আবদুর রাহমানের সাথে সাক্ষাৎ যেন নিজের অন্তরাত্মার সাথেই সাক্ষাৎ; তাকে শুভকামনা জানিয়ে একটি ভালো লাগার রেশ নিয়ে রুমে ফিরলাম।

৫.
যে হোটেলে উঠেছি, সে হোটেলের নিজস্ব জিম এবং সুইমিং পুল আছে। আজ সুইমিং করব বলে কিছুটা তাড়াতাড়ি রুমে ফিরেছি। দিনের বেলা অন্যান্য লোকজনের সামনে খালি গায়ে নামতে শরম লাগবে বলে চুপিচুপি মাগরিবের পরে গেলাম। যাব্বাবা! বাচ্চাকাচ্চাতে বোঝাই পুল; বাচ্চাগুলা বেসামাল লম্ফঝম্প করছে। সেটাও অসুবিধা ছিল না; দেখলাম এক মহিলা বয়া ধরে পানির নীচে ঝুলে রয়েছে আর একজন পুরুষ মহিলার পা ধরে সুইমিং পুলের এ-মাথা থেকে ও-মাথা পর্যন্ত বারবার টেনে নিয়ে যাচ্ছে, অনেকটা আমাদের দেশের ঠেলাগাড়ির সামনের লোকটার মত! এই দৃশ্য দেখার পর একেবারে চুপশে গেলাম! বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করছি, এর মধ্যেই এক ঢাউস সাইজের ছেলে গোটা পুলটা কাপিয়ে দিচ্ছে লাফ দিয়ে; আজ ভূমিকম্প না হয়ে যায়! 

ধুশ … আগে সিনেমায় কত দেখতাম, ফাঁকা সুইমিং পুল, নায়ক বা নায়িকা একা একা মজা করে সুইমিং করছে! এর মধ্যেই দুই মাঝবয়সী নাকবোঁচা মহিলা প্রস্তুতি নিয়ে প্রবেশ করল; আমি তাদের এগিয়ে যেতে দেখে মনকে বোঝালাম, এই দুইজন নামলে পুলে আর জায়গা থাকবেনারে পাগলা, পালিয়ে যা! মন বুঝল ব্যাপারটা; সে চোখকে ইশারা করতেই চোখ এদিক সেদিক তাকিয়ে ভাব নিতে নিতে কোনরকমে পালিয়ে বাঁচল!

৬.
‘মেরিনা গার্ডেনস বাই দ্যা বে’ (Gardens by the bay) একটি অপূর্ব সুন্দর জায়গা; বিপূল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম রয়েছে এখানে। যথারীতি সন্ধ্যার পর এর সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়। মেরিনা বে’র পাড় ঘেসে এই বাগান; মেরিনা স্যন্ডস বে’ তথা জাহাজ বিল্ডিংয়ের পিছনেই এটি অবস্থিত।

এখানে টাকার বিনিময়ে নানান ধরনের ইভেন্টে অংশগ্রহণ করা যায়; বাগানটির একেক প্রান্তে একেক ধরনের আয়োজন রয়েছে; রয়েছে বাচ্চাদের জন্য বেশ কিছু রাইড।

গার্ডেনস বাই দ্যা বে, Photo: Pixabay

এখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম মেরিনা সাউথ পায়ার্স-এ; এটা আসলে আমাদের সদরঘাট, তবে ছোট আকারের! সাগরের তীর ঘেসে এই জেটিটি তৈরি করা হয়েছে, এখান থেকে নানান জায়গায় লঞ্চ ছেড়ে যায়। 

এখানেই রয়েছে মেট্রোরেলের শেষ স্টেশন। শহরে ফিরব বলে উঠে পড়লাম, পুরো ট্রেন ফাঁকা, একটা ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে; এটার আলাদা একটা মজা আছে! সিঙ্গাপুরের প্রতিটা ইঞ্চি জায়গা এরা কাজে লাগিয়েছে; হয় ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নতুবা সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্যে! যতই এগুলো দেখি, আমার বারবার বাংলাদেশের কথা মনে পড়ে!

৭.
আজকের গন্তব্য সান্তোসা (Sentosa)। বাসে উঠেই অবাক হলাম, হিজাব পরা এক মহিলা চোখে কালো চশমা পরে বিরাট এক দোতলা বাস চালাচ্ছে! 

সান্তোসা মূলত থিম পার্ক; নানান ধরনের রাইড, মিউজিয়াম, বীচ ও সিনেমার ব্যবস্থা আছে এখানে। এখানকার ইউনিভার্সাল স্টুডিও পৃথিবী-বিখ্যাত। আমি প্রথমেই ক্যাবল কারে চড়লাম; ভালো লেগেছে তবে এটা দার্জিলিং এর রোপওয়ের মত এত এক্সাইটিং না!

এখানে কেউ একা আসেনা, এমনকি দোকা’ও কম আসে; এখানে সবাই আসে আন্ডা-বাচ্চা নিয়ে। আমার একা একা ঘুরতে ভালো লাগছে না; বাচ্চাদের নিয়ে শীঘ্রই আবার আসার সঙ্কল্প করলাম।

সান্তোসা বীচ, Photo: PixaBay

এখানে একাধিক মনোরেল আছে, এতে করে সান্তোসার মধ্যে চারটি স্পটে যাওয়া-আসা করা যায়; এটি ফ্রি! হেঁটে হেঁটে যতখানি সম্ভব দেখার চেষ্টা করছি! এর মধ্যেই এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে; আমাদের দেশের বৃষ্টির মতই! একদল ছোট সাইজের বাচ্চা এক মহিলার তত্বাবধানে ফ্লোরে বসে খেতে শুরু করেছে; আমি তাদের খাওয়া দেখছি, বাচ্চাদের খাওয়া দেখার আলাদা মজা আছে।

৮.
সিঙ্গাপুরের বোটানিক গার্ডেন (Singapore Botanical Garden) একটি অত্যন্ত সুন্দর জায়গা; পরিপাটি করে সাজানো। আমাদের বোটানিক্যাল গার্ডেনকে যত্ন করলে এটার চেয়েও সুন্দর হতে পারত! নানান ধরনের গাছের সমাহার আছে এখানে, গাছের প্রতি আমার আগ্রহ ততটা নেই যতটা আছে ফুলের প্রতি; অতএব এক কিলোমিটার হেঁটে দ্রুত বিদায় নিলাম। এ কয়দিন বাংলাদেশী শ্রমিক খুঁজছিলাম, এখানে প্রথম তাদের পেলাম। এর আগ পর্যন্ত যাদের দেখেছি সব ইন্ডিয়ান।

৯.
ঘুরেফিরে ঐ মুস্তাফা সেন্টার! দুটি বিরাট সাইজের বিল্ডিং কে সমন্বয় করে এই ওয়ান স্টপ শপিং মল তৈরি করা হয়েছে, এখন আরো বাড়ানো হচ্ছে; শুরুটা করেছিলেন মুস্তাফা নামে এক ইন্ডিয়ান ভদ্রলোক। এখানে পাওয়া যায় না, এমন কিছু নেই; এখানকার প্রায় সব কর্মচারী ইন্ডিয়ান, এখানে কেউ কোন কিছু পাহারা দেয় না, তবে চুরি করে ধরা পড়লে সাত বছরের জেলসহ জরিমানা হতে পারে!

সিঙ্গাপুরের মানুষদের একটা বৈশিষ্ট লক্ষ্যনীয়, যোয়ান-বুড়া সবার শরীর মেদহীন এবং তারা সবসময় পরিষ্কার জামাকাপড় পরে! শরীর নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তারা খুব সতর্ক, বিকেলবেলা পার্কগুলোতে দলবেঁধে জগিং করে; এসবকেই এরা জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছে! 

এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে আসার সময় অভিজ্ঞ ট্যাক্সি ড্রাইভার বলছিলেন, এখানকার ৯৯% লোকের এপার্টমেন্ট আছে। সরকার এপার্টমেন্ট বানিয়ে জনগণের কাছে বিক্রি করে; সামর্থ্য অনুযায়ী কেউ দুই রুমের, কেউ তিন রুমের, কেউ চার রুমের এপার্টমেন্ট কিনে। তিনি আরো বলছিলেন, তোমার যদি একটা বাসস্থান না থাকে, তবে তুমি মনোযোগ দিয়ে কাজ করবে কেমন করে! তার কথা শুনতে শুনতে আমার বাংলাদেশের কথা মনে পড়ল!

ছয়দিনের এই সিঙ্গাপুর দর্শনে বুঝলাম; এখানে এক সুন্দর ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও সিস্টেম গড়ে উঠেছে, মানুষের মধ্যে সততা ও প্রফেশনালিজম ডেভেলপ করেছে। যার কারণে তাদের উন্নতি এত দ্রুত হয়েছে এবং আরও হচ্ছে।

লেখকঃ শাহীন কবির

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।