অল্প খরচে দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া (Malaysia) পর্যটকদের পছন্দের দেশ। এখানে ঘুরে বেড়ানোর মতো জায়গার অভাব নেই। আর রাজধানী শহর কুয়ালালামপুরে আছে একসময়ের বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাওয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার (Petronas Twin Towers) যা পেট্রোনাস টাওয়ার নামেও পরিচিত। এটি বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু টুইন টাওয়ার। যারা কুয়ালালামপুরে ঘুরতে যান তারা পেট্রোনাস টাওয়ার অবশ্যই ঘুরে দেখবেন।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর (Kuala Lumpur) যাওয়ার জন্য এয়ার এশিয়া, বাংলাদেশ বিমান, ইউনাইটেড এয়ার, ইউ এস বাংলা, রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ, ও মালয়েশিয়ান এয়ার লাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট আছে। সময় লাগবে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। বিমান বন্দর থেকে শহর বেশ দূরে তাই কুয়ালালামপুর বিমান বন্দর থেকে বাস বা ক্যাবে করে শহরে যেতে হবে।

কিভাবে ঘুরবেন পেট্রোনাস টাওয়ার

১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা টাওয়ার ছিল এই পেট্রোনাস টাওয়ার। পেট্রোনাসের দুটি টাওয়ার স্কাই ব্রিজ দিয়ে যুক্ত। স্টিল ও কাঁচ দিয়ে নির্মিত এই টাওয়ার মালয়েশিয়ার প্রধান ইসলাম ধর্মের আর্টের মোটিফের সাথে মিল রেখে নির্মাণ করা হয়েছে। কুয়ালালামপুর শহরের প্রতীক বলা হয় এই টাওয়ারকে।

প্রতিদিন অসংখ্য টুরিস্ট এখানে আসে। পর্যটকদের দেখার সুবিধার্থে পুরো টাওয়ার গুছিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর তাই পর্যটকরা স্কাই ব্রিজ দেখার সাথে সাথে অবজারভেশন ডেক ও টাওয়ারে অবস্থিত গিফট শপও দেখতে পারে। এখানে ভিতরে যাওয়ার জন্য টিকেটের ব্যবস্থা আছে। প্রতিদিন সকাল ৮.৩০ থেকে টাওয়ার ঘুরে দেখার জন্য টিকেট বিক্রি হয়। পুরো টাওয়ারে অনেকজন টুরিস্ট গাইড আছে যাতে পর্যটকরা পুরো টাওয়ার ভালো ভাবে ঘুরে দেখতে পারে।

টাওয়ারের বেজ থেকে ১৭০ মিটার উপরে স্কাই ব্রিজ যা টাওয়ারের ৪১ তম তালায় অবস্থিত। এই ব্রিজ মূলত দুই টাওয়ারের সংযোগ স্থল। স্কাই ব্রিজে বেশী সময় নিয়ে অবস্থান করা যায় না। টুরিস্ট গাইডের নির্ধারিত ১৫ মিনিট এখানে অবস্থান করা যাবে। এই সময়ের মধ্যেই ছবি তোলা ও চারপাশের দৃশ্য দেখতে হবে। কারন প্রচুর টুরিস্ট আর এক জায়গায় বেশিক্ষণথাকলে অন্যান্য টুরিস্টদের জন্য সমস্যা, তাই ভিড় এড়ানোর জন্য প্রতি ১৫ মিনিট পর পর এখানে প্রবেশ করার টিকেট ইস্যু করা হয়।

তারপর টাওয়ারের ৮৮ তম তালায় অবস্থিত অবজারভভেশন ডেকে নিয়ে যাবে টুরিস্ট গাইড। এখান থেকে ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেলে কুয়ালালামপুর শহর দেখতে পারবেন। এখানেও সময় বেধে দেওয়া হবে। ২০মিনিট সময় কাটাতে পারবেন এখানে। অবজারভেশন ডেকের পর একদম নিচের গ্রাউন্ড ফ্লোরে নিয়ে আসা হয়। এখানে ছোট্ট একটি গিফট শপ আছে এখান থেকে ইচ্ছে হলে টুকটাক কেনাকাটা করতে পারেন।

পুরো টাওয়ার ঘুরে দেখতে প্রায় ৪৫ মিনিট এর মতো লাগে। সন্ধ্যার সময়টা টাওয়ারে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো। এই সময় টাওয়ারের সৌন্দর্যের সাথে সাথে পেট্রোনাস টাওয়ারের পিছনে আলোক ঝর্ণার এক বর্ণিল দৃশ্য দেখার সুযোগ হবে। এই আলোকোজ্জ্বল পরিবেশ সাধারনত সন্ধ্যা ৭ থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত থাকে।

টাওয়ারের নিচেই সুরিয়া কেএলসিসি শপিং কমপ্লেক্স আছে। টাওয়ার ঘোরা শেষে এখানে শপিং করতে পারেন আবার ইচ্ছে হলে মুভিও দেখতে পারেন। এছাড়াও এখানে অনেক রেস্টুরেন্ট আছে, তাই ঘুরে দেখার সাথে সাথে পেট পূজো করার ও সুযোগ আছে।      

খরচ ও সময়সূচী

বড়দের জন্য পেট্রোনাস টাওয়ার এ প্রবেশের টিকিটের দাম ১৬৩৫ টাকা ( মালয়েশিয়ান রিংগিত ৮০) আর ছোটদের জন্য ৬৭৫ টাকা (মালয়েশিয়ান রিংগিত ৩৩)। সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই টাওয়ার। তবে মাঝে লাঞ্চ ও নামাজের বিরতি আছে ১ টা থেকে ২.৩০ পর্যন্ত।

মঙ্গলবার থেকে রবিবার সপ্তাহের ৬ দিনই খোলা থাকে এই টাওয়ার। তবে সোমবার বন্ধ থাকে। এখানে টিকেটের সংখ্যা নির্দিষ্ট তাই যে প্রথমে আসবে সে আগে টিকেট কাটতে পারবে। তবে চাইলে অনলাইনেও টিকেট কাটা যায়। শিডিউল সময়ের ১৫ মিনিট আগে চেক ইন করা হয়। স্কাই ব্রিজ, অবজারভেশন ডেক ও গিফট শপে ঘোরার খরচ টিকিটের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্য কুয়ালালামপুর শহরে বেশ কিছু হোটেল আছে। যেমন- প্যাসিফিক রিজেন্সি হোটেল স্যুটস ( এখান থেকে পেট্রোনাস টাওয়ার যেতে মাত্র ১৫ মিনিট লাগে),  হোটেল মায়া কুয়ালালামপুর,  বেরজায়া টাইমস স্কোয়ার, সিম্মস ইন, মেলিয়া কুয়ালালামপুর, ফুরামা বুকিট বিন্তাং, কনকর্ড হোটেল, বিন্তাং ওয়ারিসান হোটেল, কার্ডোগান হোটেলের মতো হোটেল গুলোতে ১৫০০-২৫০০ টাকার মধ্যে দুইজন থাকতে পারবেন। আবার বেশ কিছু স্টুডিও এপার্টমেন্ট আছে শুধু থাকার জন্য। কয়েকজন মিলে থাকলে খরচ কম হলেও হোটেলের মতো সব সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে না।  

কি খাবেন

এখানে মুসলিমদের খাওয়ার জন্য অনেক ধরনের খাবার ও রেস্টুরেন্ট পাওয়া যাবে। আর সব ধরনের খাবার ও পাওয়া যাবে। রেস্টুরেন্টের মধ্যে হেয়ালি ম্যাক, ইরিস পাব (পেট্রোনাস টাওয়ার থেকে মাত্র ১০ মিনিটের হাঁটা দূরত্ব) এ যেতে পারেন। আর এখাকার নাসি গোরেং, চানা রুটি ও নানা ধরনের স্ট্রীট ফুড খেতে পছন্দ করে সবাই।

কিছু ভ্রমণ টিপস

  • যদি একজন ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই সন্ধ্যার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় “ গোল্ডেন আওয়ার” বেছে নিবেন এখানে যাওয়ার জন্য।
  • মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে গেলে দুই দিন সময় নিয়ে যাওয়া ভালো তাতে পেট্রোনাস টাওয়ার দেখার সাথে সাথে শহরটাও ভালো ভাবে দেখার সুযোগ হবে। 
  • যদি পেট্রোনাস টাওয়ারের মতো আরও এমন কোনও টাওয়ারে ঘোরার ইচ্ছে থাকে তাহলে মেনারা কুয়ালালামপুর টাওয়ারেও ঘুরে আসতে পারেন।
  • টিকেটের লাইনে দাঁড়ানোর জন্য সকাল ৬.৩০ থেকে ৭ টার মধ্যে যাওয়া ভালো, কারন ৮.৩০ এ অফিস খুললেও টিকেটের সংখ্যা নির্দিষ্ট হবার কারনে অনেক মানুষ আগে থেকেই লাইনে দাড়িয়ে থাকে।
  • এখানে আসার সময় সাথে পাসপোর্ট রাখবেন। চেক ইনের সময় দরকার পড়তে পারে।
  • একা হলে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করুন আর কয়েকজন মিলে ঘুরতে গেলে ক্যাব বা উবার ব্যবহার করুন, তাতে খরচ কম হবে।
  • শপিং এর জন্য একবার ফ্যামিলি বান্ডেল শপ ঘুরে আসতে পারেন,কমের মধ্যে দরকারি অনেক জিনিস পাবেন।

ফিচার ইমেজ : PixaBay

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।