ভারতের উত্তরের হিমাচল প্রদেশের কুলু জেলার বিয়াস নদীর উপতক্যায় অবস্থিত একটি অপূর্ব পাহাড়ি শহরের নাম মানালি (Manali)। পৌরাণিক দেবতা মনুর নাম অনুসারে মানালির নামকরণ করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মানালিতে আসা-যাওয়ার রাস্তাটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মোটরওয়ে হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

উঁচু-নিচু পাহাড়, নদী আর অপরুপ প্রকৃতি হানিমুন এবং শুটিং স্পটের জন্য বিখ্যাত মানালিকে দিয়েছে ‘পৃথিবীর স্বর্গ’ বা ‘ধারতি কা সওয়ার্গ’ নামের সুখ্যাতি। আর এই সুখ্যাতির কারণে বিয়াস নদীর তীরের মানালিতে বছর জুড়ে থাকে বিপুল পর্যটকদের আনাগোনা।

মানালির দর্শনীয় স্থান

বলিউড, কলকাতা সহ ভারত (India) এর অসংখ্য ছবির শুটিং করা হয়েছে মানালিতে। নৈস্বর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি মানালিতে পর্যটকদের মুগ্ধ করার মতো অসংখ্য জায়গা রয়েছে।

রোথাং পাস (Rohtang Pass): সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৯৭৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত রোথাং পাস মানালি শহর থেকে ৫১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মানালি থেকে পাহাড়ি আঁকা-বাঁকা সুন্দর রাস্তা ধরে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে এখানে যেতে পারবেন। এখানে সাদা বরফে ঢাকা বিশাল বিশাল পাহাড়ের সারির মাঝে স্কেটিং ও টবগ্যানিং করার মজা নিতে পারবেন। তবে ডিসেম্বর থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এখানে ভারি তুষারপাতের জন্য যাতায়াত বন্ধ থাকে।

সোলাং ভ্যালী (Solang Valley): মানালি থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে রয়েছে সোলাং ভ্যালী। রোথাং পাস যাওয়ার পথ ধরেই এখানে যাওয়া যায়। এডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য এখানে আছে প্যারাসুটিং, প্যারাগ্লাইডিং, স্কেটিং, জরবিং (Zorbing), বাঞ্জি (Bunjee) ও জীপ লাইনের মতো নানা রকম বিনোদনের আয়োজন। প্রতিটি রাইডের জন্য জনপ্রতি ৪০০ রুপির মত খরচ করতে হবে।

সোলাং ভ্যালী; Photo: Pixabay

মানিকরন (Msnikaran): কুল্লু থেকে ৪৪ কিলোমিটার দূরে মানিকরনের অবস্থান। মূলত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য মানিকরন একটি তীর্থস্থান। গুরুদোয়ারা ও মহাদেব মন্দির, গরম পানির একটি নালা ছাড়াও এখানে অসংখ্য মন্দির রয়েছে।

হিড়িম্বা দেবি মন্দির (Hidimba Devi Temple): ১৫৫৩ সালে মহাভারতের পৌরাণিক চরিত্র ভিমের স্ত্রী হিড়িম্বাকে উৎসর্গ করে এই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে। মন্দিরের চারপাশ বন বিহার ঘিরে রেখেছে।

বন বিহার (Bon Bihar): নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য বন বিহার একটি সুন্দর জায়গা। এখানে স্পিকারে সবসময় লো মেলডির সুন্দর গান বাজতে থাকে।

রেহালা জলপ্রপাত (Rehala Falls): রোথাং পাস থেকে ফেরার পথে পড়বে দেখা মিলবে চমৎকার ঝর্ণাটির। রেহালা ঝর্ণার পানি বিয়াস নদীতে গিয়ে মিশেছে।

গুলাবা (Gulaba): রেহালা ঝর্ণা থেকে একটু দূরে আছে গুলাবা। প্রাকৃতিক সুন্দর দৃশ্য ও বরফের মাঝে খেলার জন্য এটি একটি অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। এখানে স্কিং করার সুযোগ রয়েছে।

বিয়াস নদী (Beas River): মানালি শহরের গা ঘেঁষে বয়ে চলেছে বিয়াস নদী। এডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য ঠাণ্ডা হিম শীতল পানিতে রাফটিং করার সকল আয়োজন আছে এই নদীতে।

কুল্লু (Kullu): কুল্লু মানালির একটি পাহাড় রাজ্য যেখানে মহাদেব মন্দির, বৈষ্ণব দেবি মন্দির, নাগার ক্যাসেল, হাঙ্গিং ব্রিজ ও সামস লেকের এর মতো জায়গা আছে।

মান্ডি (Mandi): মান্ডিতে আছে পান্ডোহ ড্যাম যেখনে নদীতে বাধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

রোয়েরিক আর্ট গ্যালারি (Roerik Art Gallery): এক সময়ের বিখ্যাত রাশিয়ান চিত্রকর লিকোলাস রোয়েরিকের বাসভবনইটি বর্তমানে রোয়েরিক আর্ট গ্যালারিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে।

এছাড়া সুযোগ পেলে মানালির ক্লাব হাউজ (Club House), মানু মন্দির (Manu Temple), মানালি স্যাংচুরি (Manali Santuary), নাগার ক্যাসেল (Naggar Castle) এবং জানা জলপ্রপাত (Jana Falls) ইত্যাদি জায়গাগুলো ঘুরে আসতে পারেন।

কিভাবে যাবেন

অনেকেই কলকাতা থেকে কলকা মেইল ট্রেনে সিমলা হয়ে মানালি ভ্রমণে যান। তবে এক্ষেত্রে দিল্লী হয়ে মানালি যাওয়ার রাস্তাটি বহুল প্রচলিত। আর সিমলা মানিলির ট্যুর একসাথে করলে শিমলা (Shimla) হয়ে ২৫৫ কিলোমিটার দূরত্বে মানালি যাওয়া ভালো। এক্ষেত্রে, শিমলা থেকে বাসে বা গাড়ি ভাড়া করে মানালি যেতে পারেন। মানালি যাওয়ার পথে কুল্লু, মান্ডি, সামস লেক, রাফটিং পয়েন্ট, পান্ডোহ ড্যাম, সুন্দর নগর, হনুমান টেম্পল ইত্যাদি জায়গা গুলোও দেখা হয়ে যাবে। বাসে গেলে এই জায়গাগুলোতে নামতে পারবেন না তাই গাড়ি ভাড়া করে যাওয়াই উত্তম।

রুট প্লান ১ : কলকাতা থেকে ট্রেন বা বিমানে দিল্লী আসতে হবে। রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেন কলকাতা হতে দিল্লীতে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভাল উপায়। দিল্লী থেকে মানালি যাওয়ার জন্য হিমাচল প্রদেশ ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের বাস প্রতিদিন সন্ধ্যা ০৬:৩০ মিনিট এবং ০৭:৩০ মিনিটে দুটি বাস মানালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। অনলাইন বুকিং এবং আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে ফোন করতে পারেন: 01123717473, 01123325320, 011-23716689

দিল্লীর কাশ্মীরি গেট বাস টার্মিনাল থেকে দিল্লির বিভিন্ন স্টেটের বাস পাওয়া যায়। মানালি যাওয়ার বাস বেলা ২.৩০ মিনিট থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চলাচল করে। পাবলিক পরিবহনের মধ্যে হিমাচল এক্সপ্রেস হাইওয়ে আর প্রাইভেটের মধ্যে হিমাচল এসি ভোলভো এই দুটো বাস মানালিতে যায়। এছাড়া চাইলে প্রাইভেট কার ভাড়া করেও মানালি যেতে পারবেন।

রুট প্লান ২ : কলকাতা থেকে কলকা মেইল ট্রেনে সিমলা আসতে পারবেন। চাইলে একদিন সিমলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে পরদিন বাসে করে মানালি চলে যেতে পারেন। সিমলা থেকে মানালি যাবার বিভিন্ন বাস এবং প্রাইভেট কার পাওয়া যায়।

আর বিমানে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে স্পাইস জেট ও বিমান বাংলাদেশের সরাসরি দিল্লিগামী ফ্লাইট আছে। দিল্লি পৌঁছে ভারতের ইন্টারনাল রুটে ভূন্টার বিমানবন্দর আসতে হবে। মানালি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমান বন্দরটির অন্য নাম কুলু-মানালি বিমান বন্দর। ভূন্টার বিমান বন্দর থেকে মানালি পৌঁছাতে ঘন্টাখানেক সময় লাগে।

আরও পড়ুনঃ শিমলা ভ্রমণ গাইড

কোথায় থাকবেন

রাত্রিযাপনের জন্য মানালির মল রোড, ওল্ড মানালি, নিঊ মানালি এবং হিড়িম্বা টেম্পলের কাছে বেশকিছু আবাসিক হোটেল আছে। হোটেল মোন্যাল, হোটেল হোয়াইট তারা, হোটেল ওকল্যান্ড, জোস্টেল, রয়্যাল ভিয় কটেজ, হোটেল প্রিমিয়ার, মেরিস কটেজ, হোটেল মোহিনী ক্লাসিক, রক সি, নোমাডিক রেস্টের মতো হোটেলে ৪০০-৮০০ টাকার মধ্যে দুইজনের থাকার রুম পেয়ে যাবেন। একটু চোখকান খোলা রাখলে সহজেই নিজের পছন্দমত হোটেল ঠিক করে ফেলতে পারবেন। চাইলে Makemytrip, Tripadvisor, Booking.com, Agoda ইত্যাদি ওয়েবসাইট ব্যবহার করেও হোটেল বুক করতে পারবেন।

মানালি ভ্রমণ খরচ

শিমলা থেকে গাড়ি ভাড়া করে ৫,০০০- ৬,০০০ টাকার মধ্যে মানালি যেতে পারবেন। তবে গ্রুপ করে গেলে জনপ্রতি খরচ অনেক কম হয়। সীমিত অর্থ ব্যয়ে ঢাকা থেকে মানিলিত যেতে প্রায় ৩,০০০-৩,৫০০ টাকা খরচ হয়। মানালিতে খাওয়া দাওয়ার জন্য প্রতিদিন ২০০-২৫০ রুপি লাগে। সব মিলিয়ে মানালিতে যাওয়া, থাকা ও ঘোরাঘুরি সহ ৪ দিন ৩ রাত থাকতে জনপ্রতি ১৮,০০০-২০,০০০ টাকা খরচ হবে। আর শিমলা ও মানালিতে কয়েকজন মিলে গ্রুপ ট্যুর দিলে ১৫,০০০-১৮,০০০ টাকায়ও ঘুরতে পারবেন।

শিমলা মানালি ট্যুর প্ল্যান

সাধারণত যারা মানালি ঘুরতে তারা শুধু মানালি নয়, মানালি যাবার পথে শিমলা হয়ে যেতে হয় বলে শিমলা ও মানালী একসাথে ঘুরে আসেন। এবং অনেকেই সেই প্ল্যানের সাথে দিল্লি ও আগ্রা যুক্ত করে নেন। এই জায়গা গুলো একসাথে বেড়ানোর জনপ্রিয় একটা রুট প্ল্যান হলোঃ ঢাকা > কলকাতা > কালকা > শিমলা > মানালি > দিল্লি > আগ্রা > কলকাতা > ঢাকা। এত জায়গা না ঘুরে শুধু শিমলা ও মানালি ট্যুর প্ল্যানের আইডিয়া নেবার জন্যে এই রুট প্ল্যান দেখে নিতে পারেন। উপরোক্ত রুটে কম খরচে ঘুরার জন্য পর্যটকদের ১২ দিনের একটি বাজেট ট্যুর প্ল্যান সংক্ষেপে দেওয়া হল।

১ম দিন: রাতে ঢাকা থেকে বেনাপোল পৌঁছে বর্ডার পার হয়ে বনগাঁও ষ্টেশন থেকে কলকাতার দমদম মেইল ট্রেনের টিকেট কেটে নিন। কলকাতায় পৌঁছে হোটেলে ফিরতে রাত হয়ে যাবে। সুতরাং প্রথম দিন যাতায়াতেই চলে যাবে।

২য় দিন: কালকার শিমলার টিকেট কাটার জন্য ট্যাক্সিতে ফেয়ারলি প্লেসে যেতে হবে। এখানে ফরেন কোটায় শিমলা যাওয়ার টিকেট পেয়ে যাবেন। আর সেই সাথে কলকাতা শহরের কিছু জায়গা ঘুরে দেখতে পারবেন। কালকা হয়ে শিমলা গেলে টয় ট্রেনের ভ্রমণ এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। কলকাতার হাওড়া ষ্টেশন থেকে কালকা যাওয়ার ট্রেনে উঠতে হবে।

৩য় দিন: কলকাতা থেকে কালকা প্রায় ৩৩ ঘণ্টার জার্নি। তাই পুরো দিন ট্রেনে কেটে যাবে। তবে এই ভ্রমণ আজীবন মন রাখার মতোও হবে।

৪র্থ দিন: সকাল সকাল কালকাতে পৌঁছে যাবেন। কালকা থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে শিমলার অবস্থান। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তার মাঝ দিয়ে কালকা থেকে টয় ট্রেনে শিমলা যেতে হবে। শিমলাতে দুপুরের মধ্যে পৌঁছালে দা রিজ, মল রোডের মতো জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন। এরই মধ্যে শিমলা থেকে মানালি যাওয়ার টিকেট কেটে ফেলুন।

৫ম দিন: এই দিন কুফরি ও ফাগু ভ্যালী ঘুরে বেড়াতে পারবেন। আর রাতের বাসে শিমলা থেকে মানালি চলে যান। আর যদি গাড়ি নিয়ে যান তাহলে পরের দিন সকালে যেতে পারেন এবং রাস্তার পাশের টুরিস্ট স্পটগুলো দেখে যেতে পারবেন।

৬ষ্ঠ দিন: মানালিতে পৌঁছে হোটেলে চেক-ইন করে বন বিহার, ক্লাব হাউজ, হাদিম্বা মন্দির, তিব্বতিয়ান মনাস্ট্রি ইত্যাদি কাছে জায়গাগুলো ঘুরে দেখুন। রাতে মানালি থেকে পরের দিন রোথাং পাসে যাবার ব্যবস্থা করে নিন।

৭ম দিন: সকাল সকাল গাড়ি ভাড়া করে সোলাং ভ্যালী হয়ে রোথাং পাসে চলে যান। এখান থেকে মানালি ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে তাই রাতে মানালি থেকে যেতে হবে।

৮ম দিন: সকাল সকাল মানালির মল রোডের পাশের বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিন।

৯ম দিন: দিল্লিতে পৌঁছে আগেই নয়া দিল্লি থেকে আগ্রা-কলকাতা যাবার টিকিট কেটে নিন। তারপর সারাদিন দিল্লি ঘুরে বেড়ান নিজের সুবিধামতো।

১০ম দিন: দিল্লি থেকে আগ্রার জন্য রওনা দিয়ে তাজমহল ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে আসুন। তারপর রাতের ট্রেনে আগ্রা থেকে কলকাতার জন্য রওনা দিন।

১১তম দিন: পুরো দিন জার্নিতেই চলে যাবে। তাই কলকাতায় দমদমে পৌঁছে রাতে কলকাতার কোন হোটেলে থাকুন।

১২ম দিন: সকালে কলকাতার দমদম থেকে শিয়ালদহ থেকে বনগাঁও এসে বর্ডার পার হয়ে রাতের মধ্যে বা পরের দিন সকালে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারবেন।

আরও পড়ুন: দিল্লি ভ্রমণ গাইড

কোথায় খাবেন

মানালিতে গুজরাটি, মাদ্রাজি, পাঞ্জাবি খাবারের পাশাপাশি বাঙ্গালি খাবারেরও ব্যবস্থা আছে। বাঙালি খাবার হোটেলের মধ্যে শান্তিনিকেতন হোটেল, হোটেল আদর্শ, নিউ আশাপুরি ভোজনালয় এবং আশাপুরি বাঙালি রেস্টুরেন্ট উল্লেখযোগ্য। আর খাবারের আইটেমের মধ্যে চিকেন মম, ট্রাইট কেক, পাপড়ি চাট, ভেলপুরি, পানিপুরি বা গোল গাপ্পা, ইডলি বা দোসা, আলু গোবি ও ধোকলা ইত্যাদি খাবার চেখে দেখতে পারেন।

কোথায় কি কিনবেন

মানালিতে শীতের কাপড় অনেক কম দামে পাওয়া যায়। তাই শীতের কাপড়ের জন্য মানালি থেকে কেনাকাটা করা সবচেয়ে ভালো ও সাশ্রয়ী।

ভ্রমণ পরামর্শ

  • মে থেকে অক্টোবর হচ্ছে মানালি যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। অন্যসময় মানালির আবহাওয়া অসম্ভব ঠাণ্ডা থাকে।
  • শুধু মানালি ভ্রমণের উদ্দেশে না গিয়ে সাথে সিমলা ঘুরে আসা ভালো, এতে কম খরচে দুইটি জনপ্রিয় শহর ঘোরা যাবে।
  • মানালিতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য গাড়ি ছাড়া কোন বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেই। তাই মানালি শহরের গাড়ি স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি ভাড়া করতে অবশ্যই দরদাম করে নিন।
  • মানালির গুলাবাতে যাওয়ার জন্য বেশ ভারি ও মোটা কাপড়ের দরকার পড়ে, অনেকেই দেশ থেকে এগুলো নিয়ে যায় তবে ওখানে যাওয়ার পথেই ভারি শীতের কাপড় ভাড়া পাওয়া যায়।
  • রোথাং পাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্যাকেজের মাধ্যমে ঘুরলে খরচ কম পড়বে।
  • মানালিতে ভ্রমণে ক্ষেত্রে ব্যাগ প্যাকিংয়ের সময় অবশ্যই মাঙ্কি টুপি, উলের সুয়েটার, হাত ও পা মোজা ও থার্মাল ইনার নিয়ে যাবেন।
  • মানালিতে প্যারাগ্লাইডিং করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আগেই প্যারাগ্লাইডিং এজেন্টদের কাছ থেকে খোঁজখবর নিয়ে যাবেন। কারণ আবহাওয়া খারাপ থাকলে প্যারাগ্লাইডিং সম্ভব নয়।
  • মানালিতে স্মোকিং করলে জরিমানা দিতে হয় তাই এই ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন।
  • মানালি শহরে অনেক ঠান্ডা তাই হোটেল ভাড়া করার সময় রুমে হিটার ও গিজার আছে কিনা চেক করে নিন।
  • মানি এক্সচেঞ্জ করার জন্য ভালো কোনও ব্যবস্থা মানালিতে নেই তাই কলকাতা হতেই ডলার ভাঙ্গিয়ে নিন।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।