ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী শহর কলকাতা (Kolkata) যা সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বসম্পন্ন শহর। হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত এই রাজধানী শহরে স্থাপত্যের প্রতিটা নিদর্শনে রয়েছে ঐতিহ্যের ছাপ ও নানা ঘটনার সাক্ষী। আর অল্প খরচে বিদেশ ভ্রমনসহ কেনাকাটা, চিকিৎসা এই সবকিছুর জন্য কলকাতা এখন বাংলাদেশীদের পছন্দের শহরের তালিকায়। কলকাতা শহর ও শহরের কাছে নানা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে দেখার মতো অসংখ্য ঐতিহাসিক ও বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান। আর তাই সবকিছু দেখার জন্য বেশ সময় নিয়েই কলকাতা ভ্রমনে যাওয়া ভালো। ভ্রমণের পূর্বে কী কী ঘুরে দেখবেন তার একটা পরিকল্পনা করে নিলে আপনার ভ্রমণ হবে সহজ ও আনন্দময়। 

কলকাতার দর্শনীয় স্থান

কলকাতা বাসীদের  কাছে “শহরের রানী” নামে খ্যাত কাছে এই শহর আর সকলের কাছে পরিচিত “আনন্দ নগর” হিসেবে। কি নেই এই শহরে! চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভ্রমন পিপাসুদের দেখার নানা উপকরন। কখনো বাসে কখনো পায়ে হেঁটে বা কখনো মেট্রো রেলে চড়ে ঘুরে দেখতে পারবেন শহরের নানা দর্শনীয় স্থান।

কলকাতার জাদুঘর

ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম : এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দ্যা ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম হল এশিয়ার মধ্যে অন্যতম ও তাৎপর্যময় এক প্রাচীন জাদুঘর। মিশরীয় মমি, ডাইনোসর বা জীবাশ্ম কঙ্কালের যদি প্রত্যক্ষ দর্শন করতে চান তাহলে ঘুরে আসতে হবে কলকাতার এই ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম থেকে।

বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিউজিইয়্যাম : দক্ষিন কলকাতার ১৯ এ গুরুসদয় রোডে বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিউজিয়াম অবস্থিত। বিজ্ঞানের অজানা জানা ও বোঝার জন্য ছোট থেকে বড় সকলের ভালো লাগবে এই মিউজিয়াম।

রবীন্দ্র ভারতী মিউজিয়াম :  গিরিশ  পার্কের কাছে চিত্তরঞ্জন এভিন্যিউ এ অবস্থিত বিখ্যাত রবীন্দ্র ভারতী মিউজিয়্যাম “ জোড়াসাকো ঠাকুরবাড়ি” নামেও পরিচিত যা মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি। কলকাতার  রবীন্দ্র ভারতী মিউজিইয়্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আবিচ্ছেদ্য অংশ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সকল কাজকর্মের এক সংরক্ষণাগার,যা যেকারো ভালো লাগবে।

মাদার ওয়াক্স মিউজিয়াম : কলকাতার নিউ টাউনে অবস্থিত ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদাম তুসো জাদুঘরের আদলে নির্মিত ভারতের প্রথম মোম শিল্পকর্মের জাদুঘর। এখানে ৫০টির ও বেশি খ্যাতনামা ব্যাক্তিদের মোমের মূর্তি আছে এই জাদুঘরে।

নেহেরু চিলড্রেন্স জাদুঘর : শিশুদের নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো একটি জায়গা হল নেহেরু চিলড্রেন্স জাদুঘর।  রয়েছে নানা ধরনের গ্যালারি যেখানে আছে পুতুলের গ্যালারি, খেলনার গ্যালারি, রামায়ন ও মহাভারত গ্যালারি।  মূলত শিশুদের বিনোদনের সাথে সাথে শেখার নানা উপকরনের দেখা মিলবে এই জাদুঘরে।  

আশুতোষ মিউজিয়াম : কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতের শীর্ষস্থানীয় জাদুঘরগুলোর মধ্যে অন্যতম যেখানে ভারতের শিল্প কলা ও পুরাতত্ত্বের নানা কিছু সংরক্ষিত আছে।

কলকাতার ঐতিহাসিক কিছু স্থান

কলকাতা মার্বেল প্যালেস : বাংলার শৌখিন জমিদার রাজা রাজেন্দ্র মল্লিক বাহাদূর ১৮৩৫ সালে নির্মাণ করেছিলেন প্রাসাদের মত বিরাট এক অট্টালিকা যা দেখলে পর্যটকদের নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে।

ভিক্টোরিয়া মেমরিয়াল : রানী ভিক্টোরিয়ার স্মরণে তাজমহলের ধাঁচে গড়ে তোলা সাদা মার্বেলের এক অনন্য ইমারত যার কারুকার্য যে কোনো পর্যটকদের চিন্তা শক্তি কে আবার নতুন ভাবে জাগ্রত করবে।

হাওড়া ব্রিজ : “রবীন্দ্র সেতু” নামে পরিচিত কলকাতা বাসীদের কাছে প্রসিদ্ধ চমৎকার শৈল্পিক কারুকার্যময় একটি ব্রিজ। হুগলি নদীর উপর অবস্থিত কলকাতা ও হাওড়া শহরের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী সেতুগুলির মধ্যে অন্যতম।

প্রিন্সেস ঘাট : ১৮৮১ সালে জেমস প্রিন্সেপ এর স্মরণে হুগলী নদীর তীরে নির্মিত এই ঘাট যা ভ্রমণকারীদের কাছে জনপ্রিয়। কলকাতার সবচেয়ে পুরনো দর্শনীয় স্থানগুলির এটি একটি।

ফোর্ট উইলিয়াম : কলকাতা শহরের হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত ফোর্ট উইলিয়াম একটি দুর্গ। প্রাচ্যে ব্রিটিশরাজের সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় নিদর্শন এই বিশাল অট্টালিকা কলকাতার একটি আকর্ষণীয় জায়গা।

রবীন্দ্র সদন : বাংলা থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের এক অনন্য মিলনমেলা হল রবীন্দ্র সদন। বাঙ্গালি সমাজের এক প্রধান বিনোদনের উৎস এই রবীন্দ্র সদন যেখানে নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা ধরনের বিনোদনমূলক প্রদর্শনী দেখতে পারা যায়। 

কলকাতা রেসকোর্স : ১৮২০ সালে নির্মিত ভারতের সবচেয়ে বড় রেসকোর্স যা বিখ্যাত ঘোড়াদৌড়ের  ক্ষেত্র। এখানে ভারতের সবচেয়ে গৌরবমণ্ডিত ঘোড়া দৌড় যেমন ক্যালকাটা ডার্বি ও রানী এলিজাবেথ কাপ নিয়মিত আয়োজিত হয়। 

কলকাতার নানা পার্ক

  • নিকো পার্ক বিশ্বের সর্বসেরা চিত্তবিনোদনমূলক পার্ক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। 
  • সায়্যন্স সিটি পার্ক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা বিষয় জানতে দু মারতে পারেন এই সায়্যন্স সিটি থেকে যা ভালো লাগবে নিঃসন্দেহে।
  • নলবল বোটিং কমপ্লেক্স সবচেয়ে সুন্দর পিকনিকের জায়গা তবে নানা ধরনের নৌকায় চরে ভ্রমনের আনন্দ অনুভব করারও সুযোগ আছে।
  • ক্লাউন টাউন শিশুদের পছন্দ মাথায় রেখে তৈরি করা  শিশুদের ভালো লাগার মত একটি বিনোদন কেন্দ্র।  এটি কলকাতার সর্বপ্রথম শিশু উদ্যান।
  • অ্যাকোয়াটিকা রাজারহাটের কোচপুকুরে অবস্থিত একটি জলজ উদ্যান বা ওয়াটার পার্ক নামে পরিচিত।
  • ফান সিটি দুর্দান্ত সব রাইডের সমন্বয়ে গড়ে উঠা এই অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ভালো লাগবে যেকারো।

কলকাতায় বাগান ও পশু পাখির সমাহার

বোটানিক্যাল গার্ডেন : শিবপুরে হুগলী নদীর তীরে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের উদ্দ্যোগে গড়ে উঠেছে এক নয়নাভিরাম পুস্প শোভিত বোটানিক্যাল গার্ডেন।

জুওলোজিক্যাল গার্ডেন : বিশাল প্রানি ভাণ্ডার নিয়ে গড়ে উঠা কলকাতার  জুওলোজিক্যাল গার্ডেন যা এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম। বিশাল এলাকা ঘুরে ঘুরে প্রানিদের সমারোহ দেখতে ভালো লাগবে যেকারো।

আলিপুর চিড়িয়াখানা : আলিপুরে গড়ে উঠা এই চিড়িয়াখানায় আছে নানা ধরনের পশু পাখির অবস্থান।

এগ্রি- হর্টিকালচ্যার গার্ডেন : এটি মূলত উদ্দ্যান পালন সংক্রান্ত বাগান। এখানে রয়েছে গাছ গাছালি ও নানা উদ্ভিদের একটি বিশাল সংগ্রহশালা।

শহরের মধ্যে অন্যান্য স্থান

ইডেন গার্ডেন : ক্রিকেট দুনিয়ার এক বিখ্যাত স্টেডিয়াম। আরো আছেএকটি বার্মিস প্যাগোডা । পুরো ইডেন গার্ডেন ঘুরে দেখতে পছন্দ করবে সবাই।

কলেজ স্ট্রিট : বইপড়ুয়াদের জন্য একটি তীর্থস্থান। পাঠ্যবই থেকে শুরু করে বেষ্ট সেলার ও যাবতীয় নতুন পুরাতন  বইয়ের দেখা মিলবে এখানে।

ন্যাশনাল লাইব্রেরি : শুধু কলকাতা না পুরো ভারত (India) বর্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রন্থাগার হল এই ন্যাশনাল লাইব্রেরি।

বেলুর মঠ : হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত এই বেলুর মঠে রয়েছে স্বামী বিবেকান্দের বাড়ি ও নানা সাধকের সমাধি।  এছাড়াও একটি প্রদর্শন শালা আছে যেখানে কিভাবে রামকৃষ্ণ মিশন তৈরি হয়ে সারা বিশ্বে সুনাম কুড়িয়েছে তা দেখা যায়।

হংসেশ্বরী মন্দির :  কলকাতা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক তীর্থস্থান। হংসেশ্বরী মন্দির রাজকীয় আবহে গড়ে উঠা এক অপূর্ব সুন্দর মন্দির। এটি কলকাতা শহরের সবচেয়ে কাছের ও জনপ্রিয় মন্দির।

কফি হাউজ : মান্না দের গানের স্মৃতি বিজারিত কফি হাউজ।

ট্রাম মিউজিয়াম ও ট্রামে ভ্রমন : কলকাতায় ট্রাম শুরু হবার দিনের ইতিহাস ও তার খুঁটিনাটি নিয়ে এই মিজিয়াম। দেশের একমাত্র ট্রাম মিজিয়াম। রয়েছে ট্রামে করে ভ্রমণের মজার অভিজ্ঞতা যা কলকাতায় বেড়াতে এলে কেউ হাতছাড়া করতে চায় না।

এছাড়াও আছে বাংলা একাডেমি, সেন্ট পউল চার্চসহ আরও নানা মন্দির ও দেখার মতো অনেক কিছু।

কিভাবে যাবেন কলকাতা

ঢাকা থেকে ৩০০ কিলো দূরত্বে কলকাতা যাবার জন্য রয়েছে নানা ব্যাবস্থা। বিমান, ট্রেন, বাস বা নতুন চালু হওয়া জাহাজে করে যেতে পারেন ঐতিহ্যের শহর কলকাতায়। তবে অবশ্যই আগে ভিসার আবেদন করে ভিসার ব্যাবস্থা করতে হবে তারপরই যাতায়াতের মাধ্যম ঠিক করে টিকেটের ব্যাবস্থা করতে হবে।

বিমানে ঢাকা থেকে কলকাতা : বিমানের ক্ষেত্রে কলকাতায় যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ বিমান, স্পাইস জেট, এয়ার ইন্ডিয়া, জেট এয়ারওয়েজ উল্লেখযোগ্য। দেশী বিমান সংস্থা যেমন নভো এয়ার, ইউ এস বাংলা কম খরচে কলকাতা যাওয়ার জন্য ভালো। সাধারণত ঢাকা-কলকাতা বিমান ভাড়া ৪০০০- ৮০০০ টাকা আর সময় লাগে ৪৫-৫০ মিনিট। বিমান টিকেট আগে কেটে রাখলে বা রিটার্ণসহ টিকেট নিলে ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। এছাড়া অনেক এয়ারলাইন্স বিভিন্ন উপলক্ষে বিমান ভাড়ায় ডিসকাউন্ট দিয়ে থাকে।

বাসে কলকাতা যাবার উপায় : বাসের ক্ষেত্রে  শ্যামলী, বিআরটিসি, সৌহার্দ্য দিনের বেলায় সরাসরি ঢাকা থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয়। আবার রাতের সময়, বেনাপোল পর্যন্ত এক বাস হয়ে বর্ডার পার হয়ে আরেক বাসে পেট্রাপোল থেকে কলকাতা যাওয়া যায়। নন এসি বাসের ভাড়া ৭০০-৮০০ আর এসি বাসের ভাড়া ১৫০০ টাকা ।

ট্রেনে কলকাতা যাওয়ার উপায় : বাংলাদেশ-ভারত সরকারের যৌথ উদ্দোগে মৈত্রী এক্সপ্রেস সকাল ৮.১০ মিনিটে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে ছাড়ে। ট্রেন ছাড়ার আগে ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে ও ওদিকে কলকাতার চিতপুরে পাসপোর্ট ভিসা চেক করে নেওয়া হয়। মোট যাত্রা সময় ৮-১২ ঘন্টা ।

নৌ পথে কলকাতা : ঢাকা থেকে নৌ পথেও যাওয়া যায় এখন কলকাতায়। ভ্রমন পিপাসুরা সর্বোচ্চ ১৫,০০০ (ফ্যামিলি স্যুট) থেকে সর্বনিম্ন ১৫০০ (সুলভ/ডেক) টাকা খরচে নতুন চালু হওয়া এমভি মধুমতি জাহাজে ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে পারবেন। 

কোথায় থাকবেন

কলকাতায় থাকার জন্যে রয়েছে অনেক হোটেল ও গেস্ট হাউজ। কলকাতার নিউমার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, রফি আহমেদ রোডে রয়েছে অনেক হোটেল। আপনি আপনার বাজেট ও আপনার পছন্দ মত কোন হোটেলে থাকতে পারবেন। সাধারণত মোটামুটি মানের নন এসি রুমের ভাড়া ৮০০-১২০০ টাকার মধ্যে এবং এসি হোটেলের ভাড়া ১৪০০ রুপির উপরে। তবে ঘোরাঘুরির সিজনে বা বিশেষ উৎসবের দিন গুলোতে পর্যটকদের চাপ বেশি থাকে বলে তখন ভাড়াও বেশি হয়ে থাকে।

কম খরচের হোটেল : যদি একান্তই বাজেটের মধ্যে হোটেলে থাকতে চান এবং খুব কম খরচে থাকতে চান তাহলে মারকুইস স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রেটে বেশ কিছু হোটেল আছে তুলনামূলক কম খরচে থাকতে পারবেন। এছাড়া বিভিন্ন গেস্ট হাউজ ও ডর্ম গুলোতে বাজেটের মধ্যে থাকার ব্যবস্থা করে নিতে পারবেন। এছাড়া খরচ কমাতে শেয়ার করে রুম ভাড়া নিলে থাকার খরচ অনেক কমে যাবে। কম খরচের কিছু হোটেল যেমন মারকুইস স্ট্রিটের হোটেল আফরা, হোটেল প্যারাডাইস গেস্ট হাউজ, গুলশান লজ এবং মির্জা গালিব রোডের হোটেল পুষ্পক, সেন্ট্রাল গেস্ট হাউজ, হোটেল গ্রিন স্টার ইত্যাদি। তবে হোটেল বুকিং করার আগে নিজে যাচাই করে নিবেন।

খাওয়া দাওয়া

কলকাতা বাসিরা মিষ্টি খাবার খেতে বেশি পছন্দ করে। তাই কলকাতা শহরে দেখা মিলবে নানা ধরনের মিষ্টি তবে রসগোল্লা আর সন্দেশ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

“নিজামস” এ ভারতের স্ট্রিট ফুডের নানা রকম পাওয়া যাবে এখানে। দারুন জনপ্রিয় এখানকার প্রতিটা খাবার। কাঠি রোল বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। “শিরাজ গোল্ডেন রেস্টুরেন্ট” এর মুঘলাই খাবার রসনাবিলাসিদের বরাবরের পছন্দের তালিকায়।

স্ট্রিট ফুডের মধ্যে পার্ক স্ট্রীটের জায়কা’র রোল ছাড়াওপাও ভাজি, মোমো, পানি পুরি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বিবাদি বাগের স্টক এক্সচেঞ্জ আর ফেয়ারলি প্লেসের খাবার, অনাদি কেবিনের মোঘলাই পরাটা, তিওয়ারি ব্রাদার্সের চা, সিঙ্গারা, রবীন্দ্র সদন মেট্রো স্টেশনের সাথের দোকানের মোমো, আসলাম এর বিরিয়ানি, ওয়াও মমর “মম”, চীনা টাউনের চীনা খাবার, কালিকার ভাজাপোড়া এই খাবার গুলোর স্বাদ নিতে অবশ্যই ভুলবেন না।

হোটেলের মধ্যে কস্তুরি, রাধুনী ও ধানসিঁড়ির খাবার বেশ মজার। আর সকালের নাশতায় যে কোনো দোকানের আলু পরাটা ও মাটির ছোট ভারে চা আপনার নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে আপনার।

কেনাকাটা

নিউ মার্কেট কলকাতার সবচেয়ে পুরনো ও বিখ্যাত বাজার যা “হগস মার্কেট” নামেও পরিচিত। শপিং প্রেমীদের জন্য এই মার্কেট একটি অন্যতম আকর্ষণ। ব্রান্ডের কিছু কেনার জন্য সবার পছন্দের একটি মার্কেট হলো কোয়েস্ট শপিং মল।

কলেজ স্ট্রীট, পার্ক স্ট্রীট ও বড় বাজার ঘুরে শপিং করবেন। তাছাড়াও সাউথ সিটি মল, আদি ঢাকেশ্বরি বস্ত্রালয়, প্রিয় গোপাল বিষয়ী, সি পালের ছাতা, আদি মোহিনী মহন কাঞ্জিলাল, শ্রী ল্যাদার এইগুলোতে অবশ্যই যাবেন শপিং এর জন্য।

কলকাতা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু টিপস

  • কলকাতায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই পাসপোর্ট ও ভিসা আগে থেকেই প্রস্তত করে রাখতে হবে
  • আকাশ বা স্থল পথ, যে মাধ্যমেই যাতায়াত করুন না কেন যাতায়াতের বিভিন্ন রুটগুলো আগে থেকে জেনে রাখবেন
  • ডলার এয়ার পোর্টে ভাংগাবেন না, পরিচিত কারো মাধ্যমে ডলার ভাঙাবেন। এজন্য আগে থেকেই কিছু ডলার নিয়ে যাবেন।
  • হোটেলে আগে থেকেই অন লাইনে বুকিং দিলে খরচ কিছুটা কম হবে।
  • কি কিনবেন তার উপর নির্ভর করে শপিং এ যাবেন তাতে কেনাকাটায় সুবিধা হবে।
  • একদিনের জন্য ট্যাক্সি ভাড়া করে শহরের ভিতরের টুরিস্ট স্পট গুলো ঘুরতে সুবিধা হবে।
  • দার্জিলিং, জয়পুর, কেরালা যাবার নানা ধরনের প্যাকেজ ট্যুর আছে যেকোনোটা বেছে নিলে খরচ ও ঝামেলা দুটোই কম হবে
  • আর যেকোনো ভ্রমনে নিজের আচার ব্যবহার সংযত ও মার্জিত রাখার চেষ্টা করবেন, মনে রাখবেন বাইরের দেশে আপনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তাই দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকবেন।  

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।