ছোট সুন্দর শহর কালিম্পং (Kalimpong) সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ১২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবস্থিত জলপাইগুড়ি বিভাগের একটি জেলা। দার্জিলিং থেকে কালিম্পং-এর দূরত্ব মাত্র ৫০ কিলোমিটার। অতীতে ভারত এবং তিব্বতের মধ্যে বাণিজ্যের জন্য কালিম্পং শহর ছিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

তিব্বতি ভাষায়, ‘কালোন’ শব্দের অর্থ ‘রাজার মন্ত্রী’ এবং ‘পং’ শব্দের অর্থ ‘সভা’ অর্থাৎ কালিম্পং মানে রাজার মন্ত্রীদের সভা। এক সময় কালিম্পং শহরে ভূটানের রাজ্যপালের কেন্দ্রীয় দফতর ছিল বলে এমন নামকরণ করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। কালিম্পং শহর ভ্রমণের অনুকূল আবহাওয়া, সোনালি ওক গাছের বন এবং আশেপাশে বেশকিছু পর্যটন কেন্দ্র থাকায় ভ্রমণপিপাসু মানুষ অবকাশ যাপনের জন্য ছুটে আসেন কালিম্পং শহরে।

কালিম্পং-এর দর্শনীয় স্থানসমূহ

কালিম্পং-এর দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত গৌরিপুর হাউস, রিশপ-রিম্বিক পর্যটন কেন্দ্র, সবুজ গ্রাম লোলেগাঁও, কালিম্পংয়ের সবচেয়ে উঁচু স্থান ডেলো পাহাড়, কালিম্পং আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্ট সেন্টার, সস্তায় পণ্য কিনার জন্য তিস্তা বাজার, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালের রোমান ক্যাথলিক চার্চ, জাং ঢোক পালরি ফোডাং বৌদ্ধ মনাস্ট্রি, ম্যাক ফারলেন চার্চ, মর্গ্যান হাউস, সায়েন্স সিটি, টসোঙ্গাঁ গুম্ফা ভুটানি আশ্রম, লেপচা মিউজিয়াম, পাইনভিউ নার্সারী এবং হনুমান মন্দির। এছাড়াও কালিম্পংয়ে রিভার রাফটিং এবং প্যারাগ্লাইডিং করা যায়।

ভ্রমণের সময়

প্রায় সারা বছরই কালিম্পং-এর আবহাওয়া ভ্রমণের জন্য অনুকূলে থাকে। তবে মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস কালিম্পং ভ্রমণের সবচেয়ে উত্তম সময়।

কিভাবে যাবেন

বাংলাদেশী ভ্রমণকারীদের জন্য লালমনিরহাটের বুড়িমারী দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করা সবচেয়ে সুবিধাজনক। ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা থেকে প্রাইভেট ট্যাক্সি অথবা শেয়ারড ট্যাক্সি ভাড়া করে মাত্র ২ ঘন্টায় শিলিগুড়ি যাওয়া যায়। আর শিলিগুড়ি থেকে সড়কপথে কালিম্পং যাবার প্রাইভেট ট্যাক্সি এবং বাস রয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং যাওয়ার সময় লাগে প্রায় আড়াই ঘন্টা।

আর কলকাতা হতে কালিম্পং-এর দূরত্ব ৬৪৬ কিলোমিটার। কলকাতার শেয়ালদা ষ্টেশন থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় দার্জিলিং মেইল নিউ জলপাইগুড়ি ষ্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। শেয়ালদা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি ষ্টেশনে পৌঁছাতে ১২ ঘন্টা সময় লাগে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে কালিম্পং যাওয়ার বাস, মিনিবাস ও জিপ পাওয়া যায়। নিউ জলপাইগুড়ি ষ্টেশন হতে কালিম্পং যেতে প্রায় ঘন্টা তিনেক সময় লাগে। চাইলে কলকাতার উল্টোডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি বাসযোগে কালিম্পং যাওয়া যায়।

কালিম্পং-এর সবচেয়ে কাছাকাছি বিমানবন্দর শিলিগুড়ি সংলগ্ন বাগডোগরায় অবস্থিত। আর বাগডোগরা থেকে কালিম্পং-এর দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। কলকাতা এবং দিল্লী থেকে নিয়মিতভাবে বাগডোগরায় বিমান চলাচল করে।

কোথায় থাকবেন

কালিম্পং পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের একাধিক টুরিষ্ট লজ রয়েছে। বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছে দূরত্বে মেইন রোডে রয়েছে মর্গান টুরিষ্ট লজ, কালিম্পং টুরিষ্ট লজ, তাশি টুরিষ্ট লজ এবং হিলটপ টুরিষ্ট লজ। এছাড়া চাইলে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী বাজেট হোটেলেও রাত্রিযাপন করতে পারবেন। মোটামুটি ভালো মানের আবাসিক হোটেলের মধ্যে- ডেকি লজ, হিমালয়ান হোটেল, হোটেল সিলভার ওক্স, কালিম্পং পার্ক হোটেল, জেপি লজ, হোটেল মাউন্টেন ভিউ ইত্যাদি উল্লেখ্যযোগ্য।

কালিম্পংয়ের কিছু হোটেলের ফোন নাম্বার:
হলুম্বা, কালিম্পং। ফোন: +913-552-256936
কালিম্পং পার্ক হোটেল, রিংকিংপং রোড, কালিম্পং। ফোন: +913-552-256656
হোটেল হিমালয়া, ফোন: +913-552-255248
দূরপীন ট্যুরিস্ট লজ, দূরপীন, কালিম্পং। ফোন: +913-552-2855140
ডেলো ট্যুরিস্ট লজ, ডেলো, কালিম্পং। ফোন: +913-552-274101
আলকানান্দা গেস্ট হাউজ, আপার কার্ট রোড, কালিম্পং। ফোন: +913-552-25625
সিলভার ওকস, রিংকিংপং রোড, ফোন: +913-552-255368, +913-552-255766

(বিঃ দ্রঃ পাসপোর্ট এবং ভিসার ৫-৬ সেট ফটোকপি সঙ্গে নিন।)

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।