ইউরোপের পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থিত তুরস্কের ইস্তানবুল (Istanbul) পর্যটকদের জন্য একটি স্বপ্নের গন্তব্য। দুই মহাদেশকে সংযোগকারী এই শহরের প্রতিটা স্থাপত্য থেকে শুরু করে খাবারের মাঝেও লুকিয়ে আছে অনেক জানা অজানা ইতিহাস ও সংস্কৃতি। ব্যস্ত এই শহরের প্রাণবন্ত জীবন থেকে বিরতির জন্য রয়েছে বিভিন্ন টুরিস্ট স্পট যা নিমিষেই শরীর ও মনকে শান্ত করে দেয়। তুরস্ক (Turkey) ভ্রমণ করলে “সুলতান সুলেমান” খ্যাত এই শহরে অবশ্যই ঘুরে আসা উচিৎ।

ইস্তানবুলে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত সময়

ইস্তাবুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে জুন থেকে অগাস্ট হল পিক সিজন আর তাই এই সময় এড়িয়ে শরত ও বসন্তকাল হিসেবে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ও মার্চ থেকে মে-এই সময়ের যেকোনো সময় ঘুরে আসতে পারেন এই শহর থেকে। এই দুই সময়েই আবহাওয়া অনেক সুন্দর থাকে আর পর্যটকদের ভিড়ও কিছুটা কম থাকে। 

ইস্তানবুলের দর্শনীয় স্থান

ইস্তানবুলে অটোম্যান ও রোমানদের নির্মিত বিখ্যাত মসজিদ, প্রাচীন কিছু ধ্বংসাবশেষ সহও আরও অনেক নিদর্শন আছে দেখার মত। যত ঘুরবেন তত মুগ্ধ হবেন এই শহরের নানা রূপে। ৭-৮ দিনের মতো সময় হাতে নিয়ে আসলে সবচেয়ে ভালো ভাবে ঘুরতে পারবেন এই শহর। পর্যটকদের জন্য কিছু বিশেষ জায়গা সংক্ষিপ্ত বিবরণ সহ তুলে ধরা হল-

সুলেমানিয়া মসজিদ (Suleymaniye Mosque) : তুরস্কের সবচেয়ে বড় ও সুন্দর মসজিদের মধ্যে এই মসজিদটি উল্লেখযোগ্য। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সাতটি পাহাড়ের উপর একটি সুন্দর মুকুট। বিশাল জায়গা নিয়ে বানানো কমপ্লেক্সের মতো এই মসজিদের প্রাচীন অনেক ভবন পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে পুনঃব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। এখানে মসজিদের সাথে সাথে হাম্মাম খানা (গোছলখানা) , হাসপাতাল ও সুলেয়মানিয়ের সমাধি দেখতে পারবেন। 

হাজিয়া সোফিয়া (Hagia Sophia) : ইস্তানবুলের কিছু বিশেষ স্মৃতিস্তম্ভের মধ্যে এই প্রাচীন স্তম্ভটি বিশেষভাবে গুরত্বপূর্ণ। মহান সম্রাট বিজ্যান্টাইন অনুমোদিত এই ভবন ৫৩৭ সাল পর্যন্ত চার্চ হিসেবে পরিচিত ছিল পরবর্তীতে ১৪৫৩ সালে সুলতানের নির্দেশে এই চার্চ মসজিদে রূপান্তরিত হয়। তারপর ১৯৩৫ সালে এই ভবনের স্থাপত্য শিল্প, সমৃদ্ধ ইতিহাস, ধর্মীয় গুরত্ব ও অসাধারন সৌন্দর্যের জন্য কামাল আতাতুর্ক এই মসজিদকে জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করেন। এই পুরো ভবনটি পর্যটকদের দেখার জন্য তিন ভাগে বিভক্ত-নিচের তালা, উপরের তালার গ্যালারি ও বাইরের ভবন। নিচের তালা মূলত এই জাদুঘরের প্রধান ভবন। এখানের ডোম, বড় একটি গির্জার প্রধান অংশ ও সোনার মোজাইক পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। বাইরের ভবনে সুলতান সুলেমানের স্ত্রী হুররামের স্নানাগার চোখে পড়বে।

টপকাপি প্যালেস (Topkapi Palace) : বর্তমানের ক্রেজ সিরিয়াল “সুলতান সুলেমান” এর সুলতানের বাসভবন ছিল এই প্যালেস। ১৪৬১ সাল পর্যন্ত পরিবার সহ সুলতান এখানে বসবাস করতো পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর পর বসফরাসের উপকূলের বাড়িতে তারা স্থানান্তরিত হয়ে যায়। এই প্যালেসের সৌন্দর্য আমরা টিভিতেই দেখে মুগ্ধ হই আর বাস্তবে কতটা সুন্দর তা হয়তো কেউ না গেলে বুঝতে পারবে না। চারটি ভাগে বিভক্ত এই ভবনের প্রথম ভাগে প্যারেড কোর্ট ও আয়া ইরানি নামের এক গির্জা চোখে পড়বে। দ্বিতীয় ভাগে বসার জন্য সুন্দর একটি পার্ক আছে যেখানে সুলতানের আমলে শুধু সুলতান ও তার মায়ের প্রবেশাধিকার ছিল।

টপকাপি প্যালেজ, ইস্তানবুল; Source: world heritage hotel

এছাড়াও এখানে কিছু প্যাভিলিয়ন, রাজকীয় কিচেন, বড় কিছু হল রুম, বিচার কক্ষ ও সুলতানদের শয়নকক্ষ নজরে পড়বে। আর “হারেম” নামের বিশেষ একটা জায়গা আছে এখানে, যার জন্য আলাদা করে টিকেট কাটতে হয়। বলা হয়ে থাকে এই হারেমে সুলতান নিজের ইচ্ছেমত যাবতীয় ব্যভিচারমূলক কাজ করতে পারতো। তৃতীয় ভাগে সুলতানের রাজকীয় ট্রেজারি ও সভা কক্ষ আছে। চতুর্থ ভাগে সুলতানের বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এখানে বাগান, পুল ও টেরেস চোখে পড়বে। সুলতান সুলেমান পবিত্র কাবা শরিফের সংস্কার করেছিলেন তাই সেই সময়ের কাবা শরিফের অংশ ও চাবি এই প্যালেসের সংগ্রহ শালায় আছে। এছাড়াও এখানে হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর দন্ত মবারক, পা’ এর ছাপ, হযরত ফাতিমা (রাঃ) ও হযরত হুসাইন (রাঃ) এর ব্যবহৃত জামা ও সাহাবিদের তলোবারি সংরক্ষিত রয়েছে।

বেসিলিকা সিস্টার্ন (Basilica Cistern): এই সিস্টার্ন বা জলাধারটি মূলত গ্রেট প্যালেস ও তার আশে পাশের ভবনের পানি সরবারাহের জন্য বানানো হয়েছিল। তবে যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাবে একসময় ময়লার স্তুপ জমে গেলেও পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে ইস্তানবুল মেট্রোপলিটন এই জলাধারটি পরিষ্কার করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। বিশাল জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা এই জলাধার বর্তমানে শহরের একটি বিশেষ টুরিস্ট স্পট হিসেবে গণ্য করা হয়।

ব্লু মসজিদ (Blue Mosque) : ইস্তানবুলের বিশেষ কিছু ভবনের মধ্যে অন্যতম এই ভবন। সুলতান আহমেদ ১ এর আমলে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয় যার সমাধি এই মসজিদের উত্তর পাশে অবস্থিত। এই মসজিদের গম্বুজ ও ছয়টি মিনার পর্যটকদের নজরে পরার মতো। নীল রঙের নকশা করা টাইলস এক ভিন্নমাত্রার সৌন্দর্য যোগ করছে এই মসজিদে।

পেরা মিউজিয়াম (Pera Museum) : সুইস ব্রিস্টল হোটেলে অবস্থিত এই জাদুঘর তুর্কিশ শিল্পের এক নিদর্শন। এই জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় তুর্কিশ শিল্পীদের বিভিন্ন আর্ট পর্যটকদের মুগ্ধ করার মতো। তুর্কিশ শিল্পী সুনা ও ইয়ান কাইরাসের ব্যাক্তিগত সংগ্রহশালা থেকে অনেক ছবি এখানে স্থান পেয়েছে। মূলত এই চিত্রশিল্প গুলো ১৭ থেকে ২০ শতাব্দীরমধ্যেরসময়ে আঁকা। আর এখানের অন্যান্য ফ্লোরে সাধারনত অস্থায়ী চিত্র প্রদর্শনী হয়ে থাকে। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত, শনিবার রাত ১০ টা পর্যন্ত, শুক্র ও রবিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬ তা পর্যন্ত খোলা থাকে এই জাদুঘর। এই জাদুঘরের পাশেই আছে ইস্তানবুল রিসার্চ ইন্সটিটিউট যেখানে রিসার্চ লাইব্রেরি ও অস্থায়ী প্রদর্শনী স্থান রয়েছে। 

গ্র্যান্ড বাজার (Grand Bazar) : রঙ্গিন ও ব্যস্ততম এই বাজার শত বর্ষ ধরে ইস্তানবুল শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সবার কাছে। ১৪৬১ সালে সুলতানের নির্দেশে নির্মিত এই বাজার শুরুতে ছোট্ট একটি গুদাম ঘর ছিল আর এখন আশেপাশের অনেক দোকান ও রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। এখানে প্রধান প্রবেশদ্বারের রাস্তা দিয়ে হাঁটলে প্রাচীন আমলের বেশ কিছু পান্থশালা নজরে পড়বে যেখানে কারিগরের সূক্ষ্ম কাজ দেখতে পাবেন। সোম থেকে শনিবার সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও ৬টার পর এখানে আর প্রবেশের অনুমতি নেই। তাই ৬ টার আগে যেকোনো সময় ঘুরে আসতে পারবেন এই বাজার থেকে।

গ্র্যান্ড বাজার, ইস্তানবুল; Source : thewingshotel

দা বসফরাস স্ট্রেইট (The Bosphorus Strait) : এই প্রণালীই তুরস্ককে এশিয়া ও ইউরোপ এই দুই ভাগে ভাগ করেছে। অনেকে একে নদী মনে করে ভুল করে। যদিও একসময় নদী ছিল তবে বর্তমানে বসফরাস প্রনালি হিসেবে পরিচিত। এই প্রণালী মূলত একটি ন্যারো সি চ্যানেল যা মারমারা ও ব্ল্যাক সীতে গিয়ে মিশেছে। বসফরাস প্রনালির দুই পাশে দেখার মতো বেশ কিছু জায়গা রয়েছে। আর নৌকা নিয়ে জায়গা গুলো ঘুরলে বেশী ভালো লাগবে। দুই পাশে হোটেল, পার্ক, বাগান ও রেস্তুরেন্টসহ বেশ কিছু পুরাতন কাঠের ভিলা নজরে পড়বে। গ্রীষ্মকালে দা বসফরাস স্ট্রেইটে ঘুরতে বেশী ভালো লাগে।

ডোলমাবাহসে প্যালেস (Dolmabahce Palace) : ইতিহাসের স্মৃতি ধারণকারী এই প্যালেস অতীতে কাঠ দ্বারা নির্মিত ছিল, তবে ১৮০০ সালের পর বর্তমানে এই স্থাপত্য এক সুন্দর প্যালেসে পরিণত হয়েছে। এখানে ১৬ টি আলাদা আলাদা ভবন রয়েছে। এখানকার বাগান ও ভবনের সুন্দরস্থাপত্য পর্যটকদের নজরে পরার মতো।

এছাড়াও ইস্তানবুলেরতাক্সিম স্কোয়ার (Taksim Square), ইস্তিক্লাল অ্যাভেন্যু (Istiklal Avenue), গালাটা স্কোয়ার(Galata Square), হিপোড্রাম স্কোয়ার(Hippodrome Square), সারপেন্টাইন কলাম (Serpent Colum) ও ঘুরে আসতে পারেন।

কিভাবে যাবেন ইস্তানবুল

বিমানে বাংলাদেশ থেকে সৌদি এরাবিয়ান, টার্কিশ বা কাতার এয়ারলাইন্সে যেতে পারেন তুরস্কের ইস্তানবুলে। ইস্তানবুলের কামাল আতাতুর্ক ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নেমে ইমিগ্রেশনের ঝামেলা শেষ করে এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি করে নিজের গন্তবে চলে যেতে পারবেন।

ইস্তানবুল ভ্রমণ খরচ

বিমানে বাংলাদেশ থেকে ইস্তানবুল যেতে ৩৮,০০০-৫২,০০০ টাকা খরচ হবে। তবে অবশ্যই টিকেট কয়েক মাস আগে কেটে রাখতে হবে তা নাহলে খরচ অনেক বেশী হবে। আর ৭ দিন ৬ রাতের জন্য ইস্তানবুলে থাকা খাওয়া সহ টুরিস্ট স্পট গুলো ঘুরে দেখতে জনপ্রতি ১,২০০০০-১,৫০০০০ টাকার মত খরচ হবে। কয়েকমিলে গ্রুপ করে ভ্রমণ করলে খরচ কম হবে।

তুরস্কের ভিসা

ইস্তানবুলে যাওয়ার জন্য ই-ভিসার ব্যবস্থা আছে। সেই ক্ষেত্রে সাথে সেনজেন ভিসা বা ভ্যালিড ইউ এস ভিসা লাগবে। আর এখানে যাদের রেসিডেন্স পারমিট নেই তাদের ক্ষেত্রে বিমানের রিটার্ণ টিকেট আর হোটেল বুকিং এর প্রুফ সাথে দিতে হবে। খরচ হতে পারে ৯,০০০-১০,০০০ টাকা। অনলাইনে মাস্টার কার্ড বা ভিসা কার্ড থাকলে তখনই পেমেন্ট করে দেওয়া যাবে। আর ফিরতি ই-মেইলে ভিসা চলে আসবে সেটা ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিলেই হবে। সাধারনত ১৮০ দিনের মেয়াদ থেকে ভিসার আর ৩০ দিনের বেশী তুরস্কে থাকা যাবে না।  

কোথায় থাকবেন

ইস্তানবুলের সুলতানামেট, তাক্সিম এরিয়া ও বেয়োগলুতে থাকার জন্য বেশ কিছু হোটেল, গেস্ট হাউজ ও ফ্ল্যাট ভাড়া পাওয়া যায়। যেমন- গ্রীন লাইফ এপার্ট হোটেল, হোটেল সেরাগলিও, আবা হোটেল ইস্তানবুল, গালাতা মেলিং, দা ওয়েস্টিক্স হোটেল এন্ড স্পা, বেলা ভিস্তা হোস্টেল, গ্র্যান্ড মার্গারিতা হোস্টেল, আরকেম হোটেল ২, তাক্সিম সিটি হোস্টেল, গ্র্যান্ড হোটেল দে পেরা,আসরে হোটেল, রুয়াম হোটেল গুলোতে ৩,৫০০- ৪,৫০০ টাকার মধ্যে এক রুমে দুই জন থাকতে পারবেন।

কোথায় ও কি খাবেন

ভোজন রসিকদের জন্য খাদ্যের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত ইস্তানবুল। এখানে খাবারের দামও বেশ কম, আর মুসলিম দেশ হওয়ার কারনে হালাল খাবার নিয়ে কোনও চিন্তা করতে হবে। তাক্সিম স্কয়ার ও ইস্তিক্লাল স্ট্রীটে বেশ কিছু ভালো মানের রেস্টুরেন্ট আছে। আর এখানের টার্কিশ বুফে রেস্টুরেন্টে ভিন্ন ধরনের খাবার খেতে পারবেন। খাবারের মধ্যে বিভিন্ন কাবাব, বাকালাভা ও টার্কিশ বিভিন্ন ডিলাইট খেতে ভুলবেন না। আর যেহেতু টার্কিশদের প্রধান খাদ্য হল কাবাব, পাউরুটি ও সালাদ তাই কম বেশী সবখানেই এই তিনটি জিনিস খেতে পারবেন। আর রাস্তার পাশে এখানে অসংখ্য কাবাব, চা ও কফির দোকান খুঁজে পাবেন। এখানে গ্র্যান্ড বাজারে চা খাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।

কোথায় ও কি কিনবেন

এখানের গ্র্যান্ড বাজার, চেভাহির শপিং মল, মল অফ ইস্তানবুল অনেক কিছু পাবেন কেনাকাটার জন্য। যেমন- টার্কিশ জামা- কাপড়, টার্কিশ গালিচা, সুভেনিয়র, সাবান, টার্কিশ ল্যাম্পস, টার্কিশ চা, চীনা মাটির তৈজস পত্রসহ বিভিন্ন জিনিস কিনতে পারেন। আর মশলা কিনতে চলে যেতে পারেন মশলা বাজার (Spice Market) তে। এখানে নানা ধরনের মশলা খুঁজে পাবেন।

কিছু টিপস

  • এখানে ইস্তানবুল কার্ড নামে একটি ট্রান্সপোর্ট কার্ড পাওয়া যায় টুরিস্টদের জন্য। সেই ক্ষেত্রে এই কার্ড দেখিয়ে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ঘুরতে খরচ অনেক কম হবে।
  • এখানে হেঁটে হেঁটে শহর ঘুরে দেখলে অনেক কিছু দেখার সুযোগ হবে।
  • ট্যাক্সি তে উঠলে মিটার চালু আছে কিনা চেক করে নিবেন, মিটার ছাড়া দামাদামি করে ট্যাক্সিতে উঠবেন না।
  • প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০ তা পর্যন্ত কোনও টিকেট ও ফি ছাড়াই ঘুরতে পারবেন পেরা মিউজিয়ামে।
  • গ্র্যান্ড বাজারে অন্তত তিনঘণ্টা সময় নিয়ে আসলে ভালো ভাবে ঘুরে দেখতে পারবেন। আর লোকাল দোকানগুলোতে দাম গ্র্যান্ড বাজারের চেয়ে কম।
  • দা বসফরাস স্ট্রেইটের উস্কুদার (Uskudar) থেকে সূর্যাস্ত দেখার দৃশ্য মিস করবেন না।
  • মুসলিম দেশ হিসেবে এখানে বেশ কিছু নিয়ম কানুন আছে তাই পর্যটক হিসেবে সেই নিয়ম কানুন মেনে চলার সাথে সাথে নিজেদের আচরণ ও পোশাকের ব্যাপারে সংযত থাকার চেষ্টা করবেন।

ফিচার ইমেজ : Pixabay

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।