ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রাজধানী দিল্লি (Delhi) বিশ্বের বৃহত্তম মহানগরী গুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রায় ১১ বার বিভিন্ন শাসকের সম্রাজ্য বিস্তার করা এই ব্যস্ত ও জনবহুল শহরের প্রতি কোণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ছাপ। সেই সাথে মুঘল আমলের বিভিন্ন স্থাপনা দিল্লির সংস্কৃতিকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। তাই তো দিল্লি জামে মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী বাজার চাঁদনী চক, কুতুব মিনার এবং বিভিন্ন সম্রাটদের সমাধিসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক দিল্লি ভ্রমণে আসে।

দিল্লিতে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময়

দিল্লিতে গরমের সময় অসহনীয় গরম আর শীতের দিনে কনকনে ঠাণ্ডা। তাই খুব ঠাণ্ডা ও গরমের দিনগুলো পরিহার করে দিল্লি ভ্রমণ করা উচিত। সেই ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারী, মার্চ, অক্টোবর ও নভেম্বর মাস দিল্লিতে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। আর পূজার সময় দিল্লিতে গেলে ভিন্ন এক শহর হিসাবে দিল্লিকে আবিষ্কার করতে পারবেন।

দিল্লিতে দর্শনীয় স্থান

দিল্লিতে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। পায়ে হেঁটে ঘুরতে চাইলেও অনেক দর্শনীয় জায়গা দেখতে পারবেন তবে কোন ট্যুর গাইডের মাধ্যমে ঘুরলে কম সময়ে অধিক জায়গা ঘুরা যায়।

ইন্ডিয়ান গেট (Indian Gate) : ১৯৩১ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও আফগানিস্থান যুদ্ধের শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নিমিত্তে ইন্ডিয়া গেট স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। সন্ধ্যার আলোতে স্মৃতিস্তম্ভতি সবচেয়ে সুন্দর লাগে। ছুটির দিনে অনেক পরিবার এখানকার উদ্যানে পিকনিক করতে আসে। রিপাবলিক ডে তে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া গেট প্যারেড ভারত (India) এর একটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান যা না দেখলে প্রকৃত গাম্ভির্য বোঝা সম্ভব নয়।

রেড ফোর্ট (Red Fort) : ভারতের মুঘল সম্রাজ্যের গর্ব ও এক অন্যন্য নিদর্শন “রেড ফোর্ট” পর্যটকদের জন্য দিল্লির প্রধান একটি দর্শনীয় স্থান। ১৬৩৮ সালে লাল বেলেপাথরে নির্মিত দুর্গটি মুঘল স্থাপত্যের চমৎকার একটি নিদর্শন। মুঘল সম্রাট শাহজাহান দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তরের সময় এই দুর্গ নির্মাণ করেন। দুর্গের ভিতর প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টায় লাইট শো দেখতে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমায়। রেড ফোর্ট দুর্গটি ২০০৭ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। চাইলে দুর্গের কাছে অবস্থিত দিগম্বর জৈন মন্দির, শিষ গঞ্জ গুরুদওয়ারা ও পারাথে ওয়ালি গালি থেকেও ঘুরে আসতে পারেন। এই দুর্গটি সোমবার বাদে প্রতিদিন খোলা থাকে। ভারতীয়দের জন্য দুর্গের এন্ট্রি ফি ৩৫ রুপি হলেও বিদেশীদের দুর্গে প্রবেশ করতে ৫০০ রুপি লাগে। প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য লাইট শোয়ের ফি ৮০ রুপি এবং ছোটদের জন্য ফি ৩০ রুপি।

জামে মসজিদ (Jama Mosjid) : চাঁদনী চকে অবস্থিত জামে মসজিদ ইন্ডিয়ার বৃহত্তম মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে প্রায় ২৫,০০০ মুসল্লি একত্রে নামায আদায় করতে পারে। ১৬৫৬ সালে শাহজাহানের আমলে প্রায় ১২ বছর ধরে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদে তিনটি গেটওয়ে, চারটি টাওয়ার এবং ৪০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট একটি মিনার রয়েছে। জামে মসজিদে প্রবেশ করতে কোন অর্থ খরচ না হলেও মসজিদের মিনারের উপর উঠতে অর্থ ব্যয় করতে হয়।

কুতুব মিনার (Kutub Minar) : ভারতের সবচেয়ে উঁচু কুতুব মিনারকে মুঘল যুগের সূচনার ও তাদের বিজয়ের স্মৃতিফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৭০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট ৫ তালা মিনারটি কুতুব-উদ-দিন আইবাকের হিন্দু সম্রাজকে পরাজিত করার পর নির্মাণ করা হয়েছিল। মিনারের উপর থেকে ছারপাশের চমৎকার দৃশ্য এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। এছাড়াও ভারতের সর্ব প্রথম মসজিদ কুতুব-উল-ইসলাম এখানে অবস্থিত।

কুতুব মিনার, দিল্লি – Source : Pixabay

দ্যা ন্যাশনাল মিউজিয়াম (The National Museum) : ভারতের বৃহত্তম জাদুঘরের মধ্যে অন্যতম দ্যা ন্যাশনাল মিউজিয়ামে প্রায় ৪,৬০০ বছরের পুরনো হারাপ্পান টেম্পল নাচ, পেইন্টিং গ্যালারি, বিশাল মন্দিরের রথ, পোড়ামাটির খেলনা, ছবি, হাড়ি, গহনা, ব্রোঞ্জ ও তামার সরঞ্জাম, ভাস্কর্য, মুখোশ, তলোয়ার, বাদ্যযন্ত্র, উপজাতিদের পোশাক ইত্যাদি রয়েছে। জাদুঘরের ন্যাশনাল সাইন্স সেন্টার বিশ্বের বৃহত্তম বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। সোমবার বাদে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত জাদুঘরটি খোলা থাকে। বিদেশী নাগরিকদের জন্য জাদুঘরে এন্ট্রি ফি ৬৫০ রূপি।

হুমায়ুন’স টম্ব (Humayun’s Tomb) : ১৫৭০ সালে হুমায়ুনের বিধবা স্ত্রী রানী হাজী বেগম পারস্য স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এই সমাধিক্ষেত্রটি নির্মাণ করেন। বিশাল সমাধি কমপ্লেক্সে সুন্দর বাগানের মাঝে সম্রাটের সমাধি স্থাপন করা হয়েছে। তাজমহলের সাথে এই স্থাপনার বেশ মিল রয়েছে। সমাধিক্ষেত্রের নিকটে নিযাম আল দিন আউলিয়ার দরগাহ রয়েছে। হুমায়ুন’স টম্বে ভারতীয়দের জন্য জনপ্রতি এন্ট্রি ফি ৩০ রুপি আর বিদেশীদের জন্য ৫০০ রুপি।

চাঁদনী চক (Chadni Chowk) : পুরাতন দিল্লি শহরে আদি ও প্রকৃত ইন্ডিয়ান বাজারের স্বাদ নিতে হলে অবশ্যই চাঁদনী চক আসতে হবে। চাঁদনী চকে অসংখ্য মানুষের ভিড়, দর কষাকষি এবং অসংখ্য বিশৃঙ্খলার মধ্যেও অন্য এক প্রাণবন্ত দিল্লির নাগরিক জীবনের স্বরূপ দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। এখানে বেশকিছু মন্দির, বাজার, রেস্টুরেন্ট ও সস্তার আবাসিক হোটেল আছে। চাদঁনী চকের ছোট ছোট দোকানগুলো ঘুরে দেখলে অবাক হবার মতো নতুন অনেকই খুঁজে পাওয়া যায়।

ন্যাশনাল জুলজিক্যাল পার্ক (National Zoological Park) : বিচিত্র প্রায় বিপন্ন বন্য প্রাণীদের এক অভায়াশ্রমের নাম ন্যাশনাল জুলজিক্যাল পার্ক। এখানের সাদা বাঘ ও ইন্ডিয়ান হাতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উপরে উল্লেখিত দর্শনীয় স্থানগুলো বাদে আরও আছে – লোদি গার্ডেন (Lodi Garden), গার্ডেন অফ ফাইভ সেন্স (Garden Of Five Senses), গুরুদওয়ারা বাংলা সাহেব (Gurudwara Bangla Sahib), গান্ধী স্মৃতি মেমোরিয়াল (Gandhi Smriti And Mahtma Gandhi Memorial), নিজামুদ্দিন দরগাহ (Nizamuddin Dargah), জান্তার মান্তার (Jantar Mantar), রাজ ঘাট (Raj Ghat), সাফদারজুং টম্ব (Safdarjung’s Tomb) ইত্যাদি।

এছাড়া দিল্লিতে অবস্থিত উল্লেখযোগ্য মন্দিরের মধ্যে রয়েছে – ইস্কন টেম্পল (Iskcon Temple), লোটাস টেম্পল (Lotus Temple), স্বামী নারায়ন আকসারধাম টেম্পল (Akasardham Temple), চাট্টাপুর টেম্পল (Chattapur Temple) এবং লাক্সমি রায়ায়ন টেম্পল (Laxminarayan Temple) ইত্যাদি।

কিভাবে ঘুরবেন দিল্লি

দিল্লির জনপ্রিয় জায়গা গুলো ঘুরে দেখার জন্যে হাতে ২দিন সময় রাখলেই বেশ ভাল করে ঘুরে দেখতে পারবেন। আপনি কি কি ঘুরে দেখতে চান সেই হিসেবে একটা তালিকা করে নিতে পারেন। তবে দিল্লি ঘুরে দেখার জন্যে সহজ উপায় হচ্ছে কোন ট্যুর এজেন্সির সিটি ট্যুর প্যাকেজ নেওয়া। ডে ট্যুর প্যাকেজ নিয়ে দিল্লি ঘুরতে পারবেন। এই জন্যে আপনি যে হোটেলে থাকবেন তাদেরকে বললেই কোন ব্যবস্থা করে দিবে। পাহাড়গঞ্জ থাকলে আশেপাশে অনেক এজেন্সি আছে তাদের সাথে কথা বলে পছন্দমত প্যাকেজ ঠিক করে নিতে পারবেন। এসি টুরিস্ট বাসে অনেক জায়গা ঘুরে দেখাবে। ডে ট্যুরের জনপ্রতি প্যাকেজ সাধারণত ৩০০-৫০০ রূপির মত হয়ে থাকে। আর আপনার কয়েকজন একসাথে ঘুরতে চাইলে সারাদিনের জন্যে ১৮০০-২০০০ রুপ দিয়ে ট্যাক্সি ভাড়া করে নিতে পারেন।

দিল্লি যাওয়ার উপায়

বাস, ট্রেন বা বিমানে করে অনেক ভাবেই দিল্লি যাওয়া যাবে। কিভাবে গেলে আপনার সুবিধা হবে বা আপনি কিভাবে যেতে চান তার উপর নির্ভর করবে।

ঢাকা থেকে বিমানে দিল্লিঃ বাংলাদেশ থেকে বিমানে সরাসরি দিল্লি যাবার ফ্লাইট আছে। SpiceJet, IndiGo, Biman Bangladesh, Air India এয়ারলাইন্স গুলোর ফ্লাইট ঢাকা টু দিল্লি সরাসরি অথবা ঢাকা টু কলকাতা টু দিল্লি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। নন স্টপ ফ্লাইটে গেলে ঢাকা থেকে যেতে সময় লাগবে প্রায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট। আর কলকাতা স্টপেজ হয়ে গেলে একেক ফ্লাইটে একেক রকম সময়। সাধারণত সর্বনিম্ন ৫ ঘন্টা থেকে ১৪ ঘন্টা লাগে।

বাংলাদেশ থেকে কলকাতা হয়ে দিল্লিঃ বাংলাদেশ থেকে কলকাতা (Kolkata) হয়ে দিল্লী অনেকভাবেই যেতে পারবেন। যেমন ঢাকা থেকে ট্রেনে মৈত্রি এক্সপ্রেসে কলকাতা গিয়ে সেখান থেকে ট্রেনে দিল্লি যেতে পারবেন অথবা কলকাতা থেকে বিমানে করে দিল্লি যেতে পারবেন। আবার বাংলাদেশ থেকে বাসে সরাসরি কলকাতা যেতে পারবেন অথবা বেনাপোল সীমান্তে গিয়ে সেখানে ইমিগ্রেশন শেষ করে কলকাতা যেতে পারবেন। আর কলকাতা থেকে ট্রেনে অথবা বিমানে দিল্লি যেতে পারবেন।

কলকাতা থেকে ট্রেনে দিল্লিঃ কলকাতা থেকে দিল্লি যাবার অনেক ট্রেন রয়েছে। সুযোগ সুবিধা ও কত সময় লাগে তার উপর নির্ভর করে ট্রেন গুলোর ভাড়া কমবেশি হয়ে থাকে। কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেস এসি ট্রেনটি সবচেয়ে আরামদায়ক এবং মাত্র ১৭ ঘন্টায় দিল্লি পৌছানো যায়। এই ট্রেনটি বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে হাওড়া স্টেশন থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কম সময়ে পৌছায় এমন ভালো ট্রেন সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে শিয়ালদাহ স্টেশন থেকে শিয়ালদাহ রাজধানী এক্সপ্রেস, শিয়ালদাহ – নিউ দিল্লী এসি দুরন্ত এক্সপ্রেস। এছাড়া সময় বেশী লাগে এবং তুলনামূলক কম খরচে ট্রেনের মধ্যে আছে হাওড়া – নিউ দিল্লী দুরন্ত এক্সপ্রেস, হাওড়া কালকা মেইল ইত্যাদি।

কলকাতা থেকে ফরেনার কোটায় টিকেট কাটতে চাইলে কলকাতার ফেয়ারলি প্লেস থেকে নিতে পারবেন আর দিল্লি থেকে কলকাতা আসার ফরেনার কোটার টিকেট নিতে চাইলে দিল্লি সেন্ট্রাল স্টেশনে মেন্ট্রোর কাছে বিশেষ কাউন্টার আছে সেখান থেকে পাবেন। আর রেগুলার টিকেট মোবাইল অ্যাপে বা সংশ্লিষ্ট স্টেশনে গিয়ে নিতে পারবেন। তবে ভাল ট্রেনের টিকেট অগ্রিম কেটে রাখা ভালো।

আরও পড়ুন: কলকাতা ভ্রমণ গাইড

কোথায় থাকবেন

দিল্লিতে কম খরচে থাকার জন্যে সবচেয়ে ভালো জায়গা পাহাড়গঞ্জ। সেখানে অনেক হোটেল আছে আপনি আপনার পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী হোটেল ঠিক করে নিতে পারবেন। আর দিল্লির চাঁদনী চক ও রেড ফোর্টের কাছে বেশ কিছু ভালো মানের হোটেল আছে। হোটেল আনশুমান, হোটেল প্যালেস হাইটস, এয়ার পোর্ট হোটেল গ্র্যান্ড লাওসন, এয়ার পোর্ট হোটেল লোটাস, হোটেল আশোকা ক্যাসেল, হোটেল দা কেভস, হোটেল লা মাউন্ট, হোটেল ইউরো ইন্টার ন্যাশনাল, হোটেল ভাটিকা প্যালেস এবং নমস্কার হোটেলে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে দুইজনের থাকার রুম পেয়ে যাবেন। অনলাইনে হোটেল বুকিং এর জন্যে OYO App এর সাহায্য নিতে পারেন।

দিল্লি ভ্রমণ খরচ

দিল্লি ভ্রমণ খরচ আপনার যাওয়া আসার উপায়, সেখানে থাকা খাওয়া এবং কিভাবে ঘুরবেন তার উপরেই নির্ভর করবে। খরচের বেশী অংশ যাবে যাওয়া আসা খরচ হিসেবে। মোটামুটি খরচ হিসেব করলে (যেমন এসি বাসে কলকাতা যাওয়া, রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনে দিল্লি যাওয়া আসা, মোটামুটি মানের হোটেলে থাকা খাওয়া) যাওয়া আসা সহ ৫ দিন ৬ রাতে জনপ্রতি প্রায় ১৭,০০০ – ১৮,০০০ টাকা খরচ হতে পারে। যদি কষ্ট করে কম বাজেটে ঘুরার প্ল্যান করতে চান তাহলেও কয়েকজন মিলে গ্রুপ করে গেলে , যাওয়া আসার ক্ষেত্রে নন এসি বাস, নন এসি স্লিপার ট্রেন এবং খাওয়া ও থাকার ব্যাপারে শেয়ার করে করলে ৫ দিন ৬ রাতের জনপ্রতি আনুমানিক ১১,০০০-১২,০০০ টাকাতেও সুন্দর করে ঘুরে আসা সম্ভব। আর বিমানে যাতায়াত করলে খরচের পরিমাণ কিছুটা বেশী হবে তবে যাওয়া আসার সময় অনেক কমে যাবে। ঢাকা থেকে বিমানে যাওয়া আসা করতে প্রায় ১৪,০০০ – ২৫,০০০ টাকার (কোন এয়ারলাইন্স এবং কতদিন আগে টিকেট করবেন তার উপর নির্ভর করবে খরচ) সাথে দিল্লি থাকা, খাওয়া ও ঘুরার খরচ যুক্ত হবে। বিমান বাংলাদেশের চেয়ে স্পাইসজেট বা ইন্ডিগো এর ভাড়া তুলনামূলক কম হয়ে থাকে।

কোথায় কি খাবেন

ভোজন রসিকদের জন্য দিল্লি যেন একটি হ্যাভেনলি ফুড হাব। দিল্লিতে এমন ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাবার রয়েছে যা বলে বুঝানো মুশকিল। স্ট্রীট ফুড থেকে শুরু করে মুঘলাই ও আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন কুজিন আছে এখানে। কাবাব গালির ইন্ডিয়ান খাবার, হালদিরামের স্থানীয় দিল্লির সব্জির বিভিন্ন আইটেম, কারিম’স এর পুরাতন দিল্লির খাবার, সাগার রাত্নার দোসা, এশিয়ান হাউসের এশিয়ান ফুড, সুশি হাউজের সুশি, দীস বিরিয়ানির বিরিয়ানি ও চাওলা চিকের ইন্ডিয়ান কারী বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। “Zomato” অ্যাপ ব্যবহার করলে দিল্লির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও খাবারের সম্পর্কে ধারনা পাবেন।

কোথায় কি কিনবেন

দিল্লি হাটে ও চাঁদনী চকে কম দামে অনেক ধরনের হ্যান্ডি ক্র্যাফটস, হাতে বোনা ব্যাগ ও পরিধেয় কাপড় কিনতে পারবেন।

দিল্লি ভ্রমণ পরামর্শ

  • দিল্লি খুব জনবহুল ও ব্যস্ত একটি শহর ফলে রাস্তায় সবসময়ই জ্যাম থাকে। তাই কোথাও ঘুরতে যেতে চাইলে সময় নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করুন।
  • দিল্লি থেকে আগ্রা খুব দূরে নয়, একদিনেই আগ্রা থেকে তাজমহল ও ফোর্ট দেখে আসতে পারবেন।
  • কলকাতা থেকে দিল্লির টিকেট আগেই বাংলাদেশ থেকে বা সেখানে পরিচিত কেউ থাকলে কেটে রাখবেন। এতে অনেক ঝামেলা কমে যাবে।
  • যদি কলকাতায় না থাকতে চান তাহলে এমনভাবে আপনার প্ল্যান ঠিক করুন যেন কোলকাতা পৌঁছে দিল্লির ট্রেন ধরতে পারেন।
  • বিশেষ উৎসবের সময় (ঈদ, পূজা) যেতে চাইলে আগে থেকেই সব ঠিক করে রাখুন।
  • স্থানীয় পানি পরিহার করে বোতলজাত পানি খান।
  • দিল্লিতে “দিল্লি বেলি” নামে একটা ফ্যাক্ট আছে তাই খাওয়ার সময় অবশ্যই একটু বুঝে শুনে খাবেন এবং দরকারি ঔষুধ সাথে রাখবেন।
  • দিল্লিতে মশার খুব প্রকোব তাই ওডোমোস বা ফেব্রিক রোল অন সাথে রাখা ভালো।
  • দিল্লিতে যথা সম্ভব সংযত কাপড় পরিধান করুন, আর একা একা রাতে বের হওয়া হতে বিরত থাকুন।
  • দিল্লির কোন স্থানীয় পরিবারের সাথে হোলি বা দিওয়ালী উৎসব উপভোগ করার চেষ্টা করুন, আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
  • কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে অবশ্যই দামদামি করে কিনবেন।
  • যাতায়াতের ক্ষেত্রে মেট্রো লাইন ব্যবহার করলে খরচ অনেক কম হবে।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।