চেরাপুঞ্জি (Cherrapunjee) ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,২৬৭ ফুট উঁচুতে অবস্থিত চেরাপুঞ্জিতে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। চেরাবাজারকে ঘিরে গড়ে উঠা খাসি সাহিত্য ও সংস্কৃতির পীঠস্থান চেরাপুঞ্জির স্থানীয় নাম হচ্ছে সোহরা। চেরাপুঞ্জিতে পাহাড়ি অপরূপ রূপের সাথে আছে মেঘের হাতছানি। কোথাও সরু পাহাড়ি রাস্তা আবার কোথাও গভীর খাদ, পাহাড়ের গায়ে মেঘের লুকোচুরি খেলায় যে কেউ হারিয়ে যাবে এই অপরূপ সৌন্দর্যের রাজ্যে। সিলেটের তামাবিল সীমান্ত পয়েন্ট থেকে চেরাপুঞ্জি যেতে মাত্র ২ ঘন্টার মত লাগে। এখানে আষাঢ় বা শ্রাবণের বৃষ্টি উপভোগ করা যেকোনো ভ্রমণ প্রেমীদের জন্য স্বপ্নের মতো।

চেরাপুঞ্জি দর্শনীয় স্থান

ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে আছে দেখার মতো দেখার মতো বেশ কিছু জায়গা। প্রতিটি জায়গায় যাওয়ারপথে দেখা মিলবে মনোমুগ্ধকর নানা ঝর্ণা ও সাথে রয়েছে পাহাড়ের হাতছানি।

  • চেরাপুঞ্জি গ্রাম : এখানে রয়েছে নানা পাহাড়ি বসতি , কমলালেবুর বাগান। দেখা মিলবে পাহাড়ের গা বেয়ে উঠা মেঘের রাজ্যের। আরো আছে চুনাপাথরের গুহা।
  • মওসিনরাম : এখানে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়। বছরে প্রায় ২৩০০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়। রয়েছে ক্রেমমাওজুমবুই নামের প্রাকৃতিক গুহা , জাবরেম,খ্রেং খ্রেং রক ও রিতমাংসির ভিউ পয়েন্ট নামের দর্শনীয় স্থান।  
  • স্ট্যালাগ মাধই পাথরের শিবলিঙ্গ : এ এক বিস্ময়কর আরণ্যক প্রাচীন গুহা যার দৈর্ঘ্য ও গভীরতা আজো অজানা। এখানে প্রবেশপথেসাজানো আছে বেশ কিছু মনোলিথ পিলার তোরণ।  
  • ডাবল ডেকার রুট ব্রিজ : এখানে সিঁড়ি বেঁয়ে ২,৫০০ ফুট উপরে উঠতে হয় আবার বিকালের মধ্যে নেমে যেতে হয়। পায়ে হেঁটে দেখা মিলবে জঙ্গল, ঝর্ণা, নদী ও নদীর ওপরের এক সুন্দর লিভিং রুট ব্রিজের। এখানে ঝর্ণায় গোছল করে দূর করে নেওয়া যাবে পথের ক্লান্তি।
  • নোহকালীকাই ফলস : এটি এশিয়ার দ্বিতীয় উচ্চতম জলপ্রপাত। বর্ষায় এক অপরূপ সুন্দর রূপ নেয় এই ঝর্ণা। এখানে ট্র্যাকিং এর সুযোগ আছে তবে শীতের কয়েক মাসের জন্য শুধু এই অনুমতি দেয়।
  • রামকৃষ্ণ মিশন : এখানে আছে স্কুল, মন্দির ও মিউজিয়াম। আরও দেখা মিলবে রামকৃষ্ণ মিশনের ঘরবাড়ি ও নৃতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা।  
  • মোসমাই কেভ : ভৌতিক পরিবেশ হিসেবে জনশ্রুতি আছে এই গুহার। অনেকে বলে এই গুহার সুরঙ্গ দিয়ে নাকি বাংলাদেশ যাওয়া যায়।
  • মোসমাই ফলস : চেরাপুঞ্জির এক বিশেষ আকর্ষণ এই মোসমাই ফলস। চেরাপুঞ্জি বাজার থেকে প্রায় ৬ কিলো দূরে অবস্থিত এই ঝর্ণা বিশ্বের ৪র্থ উচ্চতম জলপ্রপাত।
  • মকডক ভিউ পয়েন্ট : সিঁড়ি দিয়ে উঠলে পাহাড়ের ঢেউ খেলানো রূপ দেখা যাবে।
  • থাংখারাং পার্ক : চারিদিকে সবুজের সমারোহ ও হিম শিতল একটি পার্ক।
  • কালিকাই ফলস : নানা ধরনের অর্কিড ও রঙিন প্রজাপতির মেলা আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে এই ঝর্ণার চারপাশের পরিবেশ। এখানে গেলে যেন হারিয়ে যাবেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মাঝে। 

এ ছাড়াও আছে রেইনবো ফলস, সেভেন সিস্টারস ঝর্ণা, ইকো পার্ক, আরওয়া কেইভ, খরম্মা স্টোনের মতো আরও কিছু দর্শনীয় স্থান।

চেরাপুঞ্জি যাওয়ার উপযুক্ত সময়

চেরাপুঞ্জির আসল সৌন্দর্য বৃষ্টির দিনে সুন্দরভাবে ধরা পড়ে সবার চোখে। কারণ এই সময় সব ঝর্ণা গুলো পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। আর তাই মেঘালয় রাজ্যের (Meghalaya) চেরাপুঞ্জি যাওয়ার জন্য বর্ষাকাল হল উপযুক্ত সময়। সেই হিসেব জুন-আগস্ট হল চেরাপুঞ্জি যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। এ ছাড়াও মে থেকে অক্টোবরের যেকোনো সময় যেতে পারেন। শীতকালে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাসে) চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর শীত পড়ে আর তাই পর্যটকদের জন্য এই সময়টা অফ সিজন, তাপমাত্রা থাকে মাত্র ৫-১৫ ডিগ্রি। তখন যদিও ঝর্ণা গুলো শুকিয়ে থাকে তবে শীতকালে চেরাপুঞ্জির অন্যরকম আরেক সৌন্দর্যের দেখা মিলে। তাই সঠিক সময় বেছে, সুযোগ মতো যেতে পারেন চেরাপুঞ্জি।

কিভাবে যাবেন

শ্যামলী পরিবহণে চেরাপুঞ্জি যেতে চাইলে শ্যামলীর বাস আপনাকে শিলং পৌঁছে দেবে। আর শিলং থেকে শেয়ার গাড়ি কিংবা ট্যাক্সিতে চড়ে সহজেই চেরাবাজার যেতে পারবেন।

অথবা ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে করে সিলেট আসতে পারেন। সিলেট হতে বাস কিংবা সিএনজিতে চড়ে তামাবিল। এরপর ইমিগ্রেশন শেষ করে ডাউকি থেকে ট্যাক্সি নিয়ে সরাসরি চেরাবাজার কিংবা শিলং একদিন অবস্থান করে পরে চেরাবাজার যেতে পারেন। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে চমৎকার দৃশ্য দেখতে দেখতে কখন গন্তব্যে পৌঁছে যাবেন নিজেই ঢের পাবেন না।

কম খরচের মধ্যে যেতে চাইলে, ঢাকা থেকে সিলেটে ট্রেনে গিয়ে সেখান থেকে বাসে বা সিএনজি তে তামাবিল যেতে হবে। সেখান থেকে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট চেকিং শেষ করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত কাস্টমস অফিসে যেতে হবে। ভারত কাস্টমস অফিস থেকে ইমিগ্রেশন শেষ করে সেখান থেকে প্রথমে ডাউকি বাজার তারপর শিলং যেতে হবে ট্যাক্সি বা মিনি বাসে করে। তারপর শিলং এর ওয়ার্ডসলেকের গেইট পার হয়ে কিছু দূর হাটঁলেই চেরাপুঞ্জি যাওয়া যাবে।

এ ছাড়াও বাসে যাওয়া যায় ঢাকা থেকে সিলেটে। সেই ক্ষেত্রে প্রথমে এসি বা নন এসি বাসে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে হবে। সাধারনত রাত ১০-১২ টার  মধ্যে বাসগুলো ছাড়ে আর সিলেটে পৌঁছে সকাল ৫-৬ টায়।  নন এসি বাসের ভাড়া ৪৭০ টাকা।  বাসের মধ্যে এনা, শ্যামলী, হানিফ এর সার্ভিস ভালো। এরপর সিলেট কাউন্টারের পাশেই জাফলং এ যাওয়ার লোকাল বাস পাওয়া যায়। ভাড়া জন প্রতি ৬৫ টাকা।  জাফলং পৌছাতে সময় লাগবে ১.৫-২ ঘণ্টা। তারপর ওখান থেকে তামাবিল বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনে যেতে হবে।

বর্ডার পার হওয়া- ইমিগ্রেশন অফিসে সকাল ৯ টায় ইমিগ্রেশন শুরু হয়। পাসপোর্ট অফিসে একটি ছোট ফর্ম পূরণ করে ট্র্যাভেল ট্যাক্সের স্লিপসহ জমা দিতে হয়। তারপর তামাবিল পাসপোর্ট অফিসে একবার পাসপোর্ট চেকিং হয়।   তারপর আবার তামাবিল ট্যাক্স অফিসে পাসপোর্ট চেকিং হয়। এখানেসাথে থাকা যাবতীয় ইলেকট্রনিক্স জিনিসের তথ্য এন্ট্রি করে সাইন দিতে হবে।

চেরাপুঞ্জি বা শিলং এ যাওয়ার জন্য গ্রুপে যাওয়া সবচেয়ে ভালো তাতে খরচ কম পড়ে। এ ছাড়াও শ্যামলী পরিবহনের ৫১০০ টাকায় ৩ দিনের শিলং-চেরাপুঞ্জির প্যাকেজ আছে। সেই ক্ষেত্রে ভিসার সব ব্যবস্থা ওরাই করে দেয়। আর চেরাপুঞ্জি শহরে আলাদা আলাদা করে না ঘুরে গাড়ি রিজার্ভ করেও পুরো চেরাপুঞ্জি দেখতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

চেরাপুঞ্জিতে থাকার জন্য বেশ কিছু রিসোর্ট রয়েছে। সিজন অনুযায়ী ভাড়া কম বেশি হয়ে থাকে।

চেরাপুঞ্জি হলিডে রিসোর্টঃ  চেরাপুঞ্জি থেকে ১৪কিলো দূরে রয়েছে চেরাপুঞ্জি হলিডে রিসোর্ট। এখানের রুমগুলোর ভাড়া ৩,২০০ রুপি থেকে শুরু করে ৩,৮৫০ রুপি পর্যন্ত।একটা সুবিধা হল এইখরচের মধ্যে সকালের নাস্তাও অন্তর্ভুক্ত। তবেচার জনের জন্য একটি রুম ভাড়া নিলে কমে পাওয়া যাবে, চার জনের রুমের ভাড়া ২০০০ রুপি।

পালা রিসোর্টঃ এখানে রুমগুলোর ভাড়া শুরু হয় ৩,৮৫০ রুপি থেকে ৪,৯৫০ রুপি পর্যন্ত।

ক্যাফে চেরাপুঞ্জিঃ এখানে তাবুতে ও কটেজে দুই ভাবেই থাকার ব্যবস্থা আছে। তাবুর ভাড়া ১০০০-২৮৪২ রুপি আর কটেজের ভাড়া ৩,৫০০-৪,৫০০ রুপি।

এ ছাড়াও আছে কুটুমাদান রিসোর্ট, পোলো অর্কিড রিসোর্ট, গ্রীন ভ্যালী রেস্টুরেন্ট এন্ড একোমডেশন, হালালি রেস্টুরেন্ট কাম লজ, ডি-ক্লাউড গেস্ট হাউজ, লা কুপার ইনের মতো থাকার জন্য কিছু ভালো ব্যবস্থা।

তবে কম খরচের মধ্যে থাকতে চাইলে সোহরা মার্কেটের সোহরা প্লাজার রিসোর্টগুলোও থাকার জন্য ভালো।  এ ছাড়াও নৈংরিয়াত গ্রামেও থাকতে পারেন, এখানে হোম স্টে-র ব্যবস্থা আছে, চার জনের জন্য রুমের ভাড়া ১০০০-১৫০০ রুপির মধ্যে। রামকৃষ্ণেও থাকার জন্য অতিথি  ভবন ও আমেরিকান মিশন আছে। শিলংয়ের পুলিশবাজারে ৮০০ থেকে ৪,০০০ রুপির মধ্যে ডাবল রুমে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। কিংবা যোগাযোগ করতে পারেন রামকৃষ্ণ অতিথি ভবন অথবা আমেরিকান মিশনে।

কি খাবেন

হলিডে রিসোর্টে অবশ্যই স্থানীয় খাবার জাদো স্টেম চিকেন ও চিকেন নেইয়ং খেতে ভুলবেন না। এ ছাড়াও স্ট্রীট ফুডের মধ্যে চিকেন মম, এগ রোল, ভেজিটেবেল নুডুলস ভালো লাগার মতো। আপনার পছন্দমত খাবার খাওয়ার জন্য চেরাপুঞ্জিতে বেশকিছু খাবারের হোটেল পাবেন। আপনার পছন্দমত খাবার খাওয়ার জন্য চেরাপুঞ্জিতে বেশকিছু খাবারের হোটেল পাবেন।

কেনাকাটা

পুলিশ বাজার শপিং এর জন্য ভালো। এখান থেকে জামা- কাপড়, জুতা , বাঁশের বানানো নানা জিনিস ও চকলেট কিনতে পারবেন। এ ছাড়াও সোহরা বাজারে পাবেন কমলালেবু, মধু ও দারুচিনি। নুকায়কালী ফলসের পাশে খাঁটি মধু ও নানা ধরনের মসলা কিনতে পারবেন। তবে চেরাপুঞ্জি থেকে খাবার জিনিস ও কোনো শৌখিন বা ঘর সাজানোর শো-পিসের মতো জিনিস কেনা ভালো। 

চেরাপুঞ্জি ভ্রমণ খরচ

সবমিলিয়ে ৮০০০-৯০০০ টাকায় ঢাকা থেকে শিলং হয়ে চেরাপুঞ্জি ঘুরে আবার ঢাকায় ফিরে আসতে পারবেন। সহজে ও কম খরচে শিলং, চেরাপুঞ্জি, মওসিনরাম, নারটিয়াং এবং মাওলিনং ভ্রমণের জন্য মেঘালয় পর্যটন দপ্তর আয়োজিত ট্যুরে যুক্ত হতে পারেন। পুলিশ বাজারের জেল রোডে অবস্থিত ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার থেকে এই ট্যুর শুরু হয়। তবে আপনাদের দলে যদি ৮ থেকে ১০ জন থাকে তবে টাটাসুমো ভাড়া নিয়ে নিজেরা ইচ্ছেমতো তালিকা করে ট্যুরিস্ট প্লেসগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন। ট্যাক্সি ভাড়া নিয়ে বিভ্রান্ত হবার কিছু নেই কারণ পুলিশ বাজারের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে তালিকা দেখে ভাড়ার পরিমাণ জানতে পারবেন।

চেরাপুঞ্জি ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ টিপস

চেরাপুঞ্জি যাওয়ার আগে কিছু বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। নিজের ব্যাগ গুছানোর সাথে সাথে আরও বাড়তি কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে এই ট্যুরের জন্য। যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা হল-

  • পূজা আর ক্রিসমাসের ছুটিতে চেরাপুঞ্জিতে বেশ ভীড় হয় ও তখন হোটেলে সিটও পাওয়া কঠিন হয়। তাই এই দুই ছুটি এড়িয়ে অন্য কোন সময় যাওয়া ভালো।
  • বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরামদায়ক ও ব্যাগে জায়গা কম লাগে এমন পোশাক বাছাই করুন। আর হালকা শীতের কাপড় নিবেন।
  • পাহাড় বেয়ে উঠার জন্য ভালো গ্রিপ আছে এমন ট্র্যাভেলিং বা ট্র্যাকিং সু সাথে নিবেন।
  • বৃষ্টির দিনে যেহেতু চেরাপুঞ্জির আসল সৌন্দর্য দেখা যায় তাই সাথে অবশ্যই রেইনকোট ও ছাতা রাখবেন।
  • রাপুঞ্জির ডাবল ডেকার রুট ব্রিজে যেতে হলে প্রায় ২,৫০০ ফুট সিঁড়ি বেয়ে উঠা নামা করতে হবে। তাই শারীরিক সক্ষমতার বেপারে নিশ্চিত হয়ে সকাল সকাল গিয়ে বিকেলের মধ্যে ফেরে আসুন।
  • চেরাপুঞ্জির সব ঝর্ণাই দিনের বেশীরভাগ সময় মেঘে ঢাকা থাকে তাই ঝর্ণার পরিপূর্ণ রুপ দেখতে ড্রাইভারের তাড়া উপেক্ষা করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে পারেন।
  • রবিবার অর্থাৎ সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এখানে সব দোকানপাঠ বন্ধ থাকে।
  • প্রয়োজনীয় টাকা ও ডলার সাথে রাখতে হবে। কত খরচ হবে সেই হিসেব করে আনুমানিক কিছু টাকা ডলার এনডোর্স করে নেওয়া ভালো। পরবর্তীতে মানি এক্সচেঞ্জ করে রুপি করে নিতে হবে।
  • ইন্টারনেটের সমস্যা হতে পারে তাই আগেই অফলাইনে ম্যাপ ডাউনলোড করে নিলে শুধু জিপিএস ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় যেতে সুবিধা হবে।
  • সাথে একজন গাইড নিলে নানা জায়গায় যেতে সুবিধা হবে।
  • ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে দামাদামি করে কিনবেন।
  • রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় সতর্ক থাকবেন কারন শূকরের মাংস দিয়ে রান্না করা নানা খাবার থাকে তাই দেখে শুনে , খাবারের উপাদান জেনে তারপর খাবার অর্ডার করবেন।

অন্যান্য ভ্রমণ টিপস

আরো কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে ভ্রমণের সময় –

  • পাসপোর্ট ও ভিসা ভ্রমণের অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হবে।
  • দরকারি কাগজ-পত্রের কিছু ফটোকপি সাথে রাখা ভালো।
  • বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারকে ভ্রমণ কর দিতে হয়। চেরাপুঞ্জি যাওয়ার ক্ষেত্রে ভ্রমণ ট্যাক্স ৫০০ টাকা। তাই ভ্রমণের আগেই কর পরিশোধ করে দিতে হবে।
  • এক্সট্রা ব্যাটারি ও পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখা ভালো।
  • নিজস্ব আলাদা ক্যামেরা বা ভালো ক্যামেরা সব ফোন নিতে ভুলবেন না স্মৃতিগুলো ফ্রেমে বন্দি করার জন্য।
  • একটা ফাস্ট এইড বক্স সাথে রাখবেন যেকোনো সময় কাজে লাগতে পারে।
  • আর যেকোনো ভ্রমণে নিজের আচার ব্যবহার সংযত ও মার্জিত রাখার চেষ্টা করবেন, মনে রাখবেন বাইরের দেশে আপনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি।

কিছু প্রয়োজনীয় ফোন নাম্বার

শিলং শহরের পুলিশ সদর দফতর: ৯১-৩৬৪-২২২৪৪০০/৯১-৩৬৪-২২২৪১০০। চেরাপুঞ্জি সম্পর্কে তথ্য পেতে যোগাযোগ- মেঘালয় পর্যটন দফতর, ফোন: ৯১-৩৬৪-২২৬২২০। এছাড়া ভারতীয় পর্যটন দফতরে ফোন করেও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। ফোন: ৯১-৩৬৪-২২৫৬৩২।

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।