বীরশ্রেষ্ঠ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদক। যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া হয় বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে। যাদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের বাংলাদেশ।দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের সমাধি। আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা কোথায় শুয়ে আছেন আমাদের বীরশ্রেষ্ঠরা। বিজয়ের মাসে তাঁদের স্বরণে ভ্রমণ গাইডের এই ফিচারে থাকছে ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, আত্মদানের কথা এবং কোথায় সমাধি তার তথ্য।

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সমাধি
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সমাধি; ছবিঃ ফারহান মোস্তাকিম

বরিশালের রহমতগঞ্জ গ্রামে নেয়া বাংলার বীর সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মহানন্দা নদীর কাছে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার সময় শত্রুর বুলেটের আঘাতে শহীদ হন। ঢাকা সেনানিবাসের প্রধান ফটক জাহাঙ্গীর গেইটের নামকরণ করা হয়েছে মহান এই বীরশ্রেষ্ঠের সম্মানে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গনে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি অবস্থিত।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের সমাধি
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সমাধি

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারী বর্তমান ঝিনাইদহ জেলার অন্তর্গত তৎকালীন যশোর জেলার মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযোদ্ধের মাত্র কয়েক মাস আগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেয়া হামিদুর রহমান সিলেটের শ্রীমঙ্গল এলাকায় যুদ্ধ করছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর সকালে হামিদুর রহমান ধলই বিওপি-তে পাকিস্থানীদের ঘাটি দখলের যুদ্ধে শত্রুদের পাল্টা আক্রমণে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের সমাধি অবস্থিত।

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল সমাধি; ছবি: রায়হান রানা

১৯৪৭ সালে ১৬ ডিসেম্বর ভোলার দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে মোহাম্মদ মোস্তফার কামালের জন্ম। সেনা সদস্য হবার স্বপ্নে বিভোর মোস্তফা কামাল ১৯৬৭ সাল বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধের এক পর্যায়ে ১৮ এপ্রিল শত্রুদের প্রতিহত করতে গিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ  সিপাহী মোস্তফা কামাল শাহাদাৎ বরণ করেন। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি খুলনা
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সমাধি; ছবি: শেখ জাহিদুল ইসলাম

১৯৩৫ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে জন্ম নেয়া বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি একটি যুদ্ধ জাহাজে অবস্থানকালীন শত্রুপক্ষের বিমান হামলায় শহীদ হন। খুলনা জেলার রূপসা নদীর পূর্বপাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সামরিক সর্বোচ্চ খেতাবে সম্মানিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন। প্রতিবছর রুহুল আমিনের শাহাদাৎ বার্ষিকী ও সশস্ত্রবাহিনী দিবসে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন নানা কর্মসূচির আয়োজনের মাধ্যমে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি স্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকে।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সমাধি
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান সমাধি

বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ নভেম্বর পুরান ঢাকায় অবস্থিত মোবারক লজ-এ জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে কমিশন লাভ করে যোগ দেন করাচির মৌরিপুর এয়ার বেজে জেনারেল ডিউটি পাইলট হিসাবে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহনের উদ্দেশ্যে করাচি থেকে বিমান ছিনতাই করে আসার সময় নিহত হন এই জাতীয় বীর সন্তান। ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সমাধি অবস্থিত।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি রাঙ্গামাটি
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ সমাধি; ছবি: আলিফ বাবু

রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে কাপ্তাই লেকের ছোট্ট এক দ্বীপে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি অবস্থিত। ১৯৪৩ সালের ৮ মে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার সালামতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই বীর সন্তান। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটির মহালছড়ি থানার বুড়িঘাট চিংড়ি খাল এলাকায় পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ শাহাদাৎ বরণ করেন।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের মাজার যশোর
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ সমাধি; ছবি: তানভীরুল ইসলাম

বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালে ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল জেলার চন্ডীকপুরের মহেষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ তিনি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে নূর মোহাম্মদ সহ আরো ৪ জনের স্ট্যান্ডিং পেট্রোল চলাকালে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পাকিস্থানী বাহিনীর আচমকা আক্রমণ থেকে সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। যশোর জেলার শার্শা উপজেলাস্থ ডিহি ইউনিয়ন রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের মাজার

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।