এক বন্ধু সিলেট পড়াশোনা করে, তার আমন্ত্রণে আরো কয়েকমাস আগেই সিলেট ভ্রমণে যাওয়ার কথা। কিন্তু একা একা তো আর যাওয়া যায় না, তাছাড়া শুকনো মৌসুমে সিলেট গিয়ে কী করবো! তাই মোটামুটি সিদ্ধান্তে পৌঁছালাম যে, ভরা-বৃষ্টির সিজনেই সিলেট যাবো। যদিও এর আগে দুইবার সিলেট যাওয়া হয়েছে, কিন্তু শুধু শহরটাই অল্প ঘুরে দেখা হয়েছে। এবার তাই কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে সিলেট যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং সে অনুযায়ী একটা খসড়া পরিকল্পনা সাজালাম। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের ভ্রমণ গল্প তুলে ধরলাম আপনার সামনে। পুরো লেখাটা পড়লে আশা করি যারা সিলেট ভ্রমণে যাবেন তাদের অনেক কিছুই জানা হয়ে যাবে।

১ম দিন – জাফলং

রাতে উপবনে করে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম আমরা পাঁচজন। সিলেট পৌঁছালাম ভোরে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ১০০ টাকায় সিএনজি ভাড়া করে ‘পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট’ এ গিয়ে সকালের খাবারটা সেরে নিলাম। সিলেট ভ্রমণে আসলে এই রেস্টুরেন্টটাতে অন্তত একবার হলেও খাওয়া উচিত। এখানে খাবারের মান এবং খাবারের দাম – দুইটাই প্রশংসনীয়। মাত্র ২৮০ টাকায় আমরা পাঁচজন পেটভরে ও তৃপ্তিসহকারে সকালের খাবার খেয়ে নিলাম!

খাওয়ার পর্বটা সেরে আরেক সিএনজিতে করে চলে গেলাম বন্ধুর হোস্টেলে। হোস্টেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিয়ে জাফলং এর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করলাম। পাঁচজনের জন্য দুইটা ব্যাকপ্যাক-এ প্রয়োজনীয় কাপড়, গামছা, পাওয়ার ব্যাংক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নেওয়া হলো। জাফলং গিয়ে যে কাপড় ভেজাবো, সেটা গায়ে দিয়েই বের হলাম। সম্ভব হলে সিলেট ট্যুরের সময় অবশ্যই সাথে ছাতা নেওয়া উচিত।

সিএনজিতে করে চলে গেলাম সিলেট শহরের টিলাগড়ে। সেখান থেকে বাস, লেগুনা ও সিএনজি ছেড়ে যায় জাফলং এর উদ্দেশ্যে। বাসভাড়া ৬০-৭০ টাকা করে নেয়। আর লেগুনায় ৮০-১০০ টাকা। সিএনজি যেহেতু রিজার্ভ করিনি, তাই সেটার কথা বলতে পারছি না। আমরা সহজে গাড়ি পাচ্ছিলাম না, অবশেষে একটা লেগুনার ড্রাইভারের সাথে কথা হলো, জনপ্রতি ১০০ করে নিয়ে যাবে আমাদেরকে। এক্ষেত্রে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, তা হলো, জাফলং লেগুনায় করে যাওয়ার সময় ড্রাইভার বারবার লোকাল যাত্রী তুলবে। পারলে অন্য কোনো গ্রুপের সাথে আপনার গ্রুপটাকে মার্জ করে ১০-১২ জনের একটা গ্রুপ বানিয়ে ফেলুন এবং জনপ্রতি ৮০-১০০ টাকায় দরকষাকষি করে পুরো লেগুনাটাই রিজার্ভ করে ফেলুন। এভাবে সময় বাঁচবে, বারবার থামবে হবে না রাস্তায়।

বিছানাকান্দি সিলেট
বিছনাকান্দি

জাফলং যাওয়ার পথে পুরোটা রাস্তাই আপনি উপভোগ করবেন; বিশেষ করে শেষের দিকে রাস্তা থেকে দৃশ্যমান ভারতের বর্ডার সংলগ্ন পাহাড়গুলো মন ভূলিয়ে দেবে। তবে শেষভাগে কিছু জায়গায় রাস্তার অবস্থা একটু খারাপ। অবশ্য রাস্তার দিকে আপনার খেয়ালই থাকবে না, আপনার দৃষ্টি পাহাড় এবং পাহাড়ের গা-জুড়ে থাকা অজস্র সুন্দর সুন্দর ঝর্ণার দিকেই নিবদ্ধ থাকবে।

পুরোটা সিলেট ভ্রমণের সময় একটা বিষয় বেশ চোখে পড়বে। মনে হবে যেন সব বড় বড় পাহাড়গুলোর একদম গোড়া থেকে এদেশ(বাংলাদেশ) আর ওদেশের(ভারতের) সীমানার দাগ কাটা হয়েছে এবং পাহাড়গুলোকে মানচিত্র থেকে কেটে কেটে ভারত নিয়ে গেছে। কিন্তু একটু গভীরভাবে ভেবে দেখলে বোঝা যাবে এটাই বাস্তবতা। দেশভাগের সময় আমরা ওই সুন্দর পাহাড়গুলোকে চাইনি, ওই পাহাড়ে বসবাস করা আদিবাসীদেরকেও চাইনি; চেয়েছিলাম শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে একটা সীমানার দাগ, যার এপাশে পাহাড়-ঝর্ণা না থাকলেও চলবে।

আরও পড়ুন : একদিনের সিলেট ভ্রমণ প্ল্যান

একটা বিষয় উল্লেখ করা দরকার, আমরা তিনদিনের ট্যুরে কোনোদিনই দুপুরে ভাত বা ভারী খাবার খাইনি, বেশী করে কলা, কেক আর বাটার-বান নিয়ে গেছি সাথে করে; বিকাল/সন্ধ্যায় ট্যুর থেকে শহরে ফিরে কিছু খেয়ে নিয়েছি। মূল উদ্দেশ্য দুপুরে খাওয়ার ঝামেলা কমানো এবং টয়লেট সংক্রান্ত সমস্যা ফেইস না করা। অবশ্য সেইসাথে কিছু সময়ও বেঁচে যাবে, খাবার হোটেল খুঁজতে হবে না।

জাফলং নেমে আশেপাশে অনেক দোকান পাবেন, ঠান্ডা পানি নিয়ে নিন কোনোটা থেকে। এরপর সেখানকার উঁচু ঢালে দাঁড়ালে সীমানার ওপারে, মানে ভারতের পাহাড়ের উপর বানানো দৃষ্টিনন্দন ঘর-বাড়ি, রিসোর্ট চোখে পড়বে। সেইসাথে দেখবেন মেঘ পাহাড়কে ছুঁয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে প্রায় পুরোটা এলাকা একসাথে চোখে পড়বে। 
জাফলং এর মেইন পয়েন্টে যাওয়ার জন্য এবার সিঁড়ি বেয়ে নামতে হবে নিচে। নেমেই ছোট্ট একটা পানির ধারা পায়ে হেঁটে পার হয়ে যেতে হবে। কাজটা যদিও অত্যন্ত সহজ, কিন্তু সেটা করতে গিয়ে কিছু মানুষের যুদ্ধ দেখে খুব মজা পেয়েছিলাম। 

এখানেই জাফলং এর মূল জায়গাটা। ভারতের বিভিন্ন ঝর্ণা পেরিয়ে পানির ধারা এসে এখানে বড় লেকের মতো জলাশয় তৈরি করেছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কিছু পাথর। মানুষ মূলত এই জলাশয়েই সাঁতার কাটে কিংবা সীমানার ওপাশের ঝর্ণা থেকে নেমে আসা জলধারার স্রোত উপভোগ করে। এই জলাশয়ের অপর পাশে যাওয়ার জন্য রয়েছে বোট, জনপ্রতি ২০ টাকা করে নেয় এপার থেকে ওপারে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমরা ৫ জন ৮০ টাকা দিলাম। অপর পাশে নেমে বেশ খানিকটা পথ(খুব বেশী নয়) হাঁটলে সংগ্রামপুঞ্জী ঝর্ণা। হাঁটার সময় পায়ে স্যান্ডেল থাকলে ভালো হয়; বালু গরম হয়ে যায় রোদে, খালি পায়ে হাঁটতে কষ্ট হয়। জাফলং আসলে এই ঝর্ণায় না এসে চলে যাওয়া উচিত হবে না। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এই ঝর্ণাটাই বরং বেশী ভালো লেগেছে। 

সংগ্রামপুঞ্জী ঝর্ণা দেখতে ভালোই, এর পানিও বেশ ঠান্ডা। প্রকৃতপক্ষে পাথুরে পাহাড় বেয়ে নেমে আসা সকল পানির ধারাই হিমশীতল। আমরা দুজন ব্যাগ এর পাহারায় থেকে বাকী তিনজনকে ঝর্ণায় গোসল করতে পাঠালাম, ওরা বেশ কিছুক্ষণ ভিজে এসে আমাদেরকে যাওয়ার সুযোগ করে দিলো। আমরা ঝর্ণা বেয়ে একটু বেশীই উপরে উঠে গেছিলাম, ফলে সেখানে থাকা সিকিউরিটিরা মাইকিং করে আমাদেরকে নামালো। আমি অন্যদের বেশী উপরে উঠতে নিরুৎসাহিত করবো। চট্টগ্রামে আমার প্রায়ই মোটামুটি দুর্গম পাহাড়/ঝর্ণা বেয়ে উঠার অভ্যাস আছে, কিন্তু তবুও সংগ্রামপুঞ্জী ঝর্ণা বেয়ে উপরে উঠার পর নামতে গিয়ে মনে হলো, কাজটা বেশ বিপজ্জনক।

প্রায় দুই ঘন্টা ঝর্ণায় কাটিয়ে আমরা ফিরতি পথ ধরলাম। সংগ্রামপুঞ্জী ঝর্ণা যে এলাকায়, সেখানে বর্ডার-মার্কেটের মতো বসে; কিছু ইন্ডিয়ান কসমেটিক্স ও অন্যান্য দ্রব্য পাওয়া যায়। কেনার ইচ্ছা থাকলে সাথে কিছু অতিরিক্ত অর্থ নেবেন। এছাড়া এ এলাকার পাশেই রয়েছে খাসিয়াপল্লী। কিন্তু আমরা সেখানে যাইনি। প্রথমত, সময় স্বল্পতা। দ্বিতীয়ত, রাতে ঘুম না হওয়ায় সবাই ক্লান্ত। তাই আবার নৌকায় করে এপারে ফিরে আসলাম। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে এলাম, যেখানে দোকানপাট রয়েছে। এখান থেকেই গাড়িতে উঠতে হয়। আমরা আগের মতোই লেগুনাতে জনপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে সিলেট শহরের টিলাগড়ে ফিরে এলাম। আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। সেদিনকার মতো এখানেই ভ্রমণের সমাপ্তি।

২য় দিন – বিছানাকান্দি ও রাতারগুল

জাফলং গিয়েছিলাম কিছুটা ক্লান্ত শরীর নিয়ে। তাই ভেবেছিলাম বন্ধুর হোস্টেলে ফিরেই ফ্রেশ হয়ে খেয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়বো এবং পরদিন খুব সকালে উঠে রওনা দেব।
কিন্তু কিসের প্লান, কিসের কী! খেয়ে দেয়ে সবে মিলে আড্ডা শুরু করলাম, কখন ৩ টা বেজে গেলো কেউ বলতে পারবো না। ভোরে শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি, সকাল পর্যন্ত চললো। বৃষ্টিস্নাত সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যাগ গুছিয়ে বের হতে প্রায় ৮:৩০ টা বেজে গেলো। চলে আসলাম সিলেট শহরের আম্বরখানায়। এখান থেকে পরোটা, ভাজি ও চা দিয়ে নাস্তা সেরে আমরা সিএনজি রিজার্ভ করতে নেমে পড়লাম। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে পেয়ে গেলাম একটা সিএনজি। ঠিক হলো, উনি আমাদেরকে প্রথমে গোয়াইনঘাট নামিয়ে দেবেন, সেখান থেকে বোটে করে আমরা বিছানাকান্দি ঘুরে আসবো, এরপর আমাদেরকে রাতারগুল নিয়ে যাবেন এবং সবশেষে আবার আম্বরখানায় এনে নামিয়ে দেবেন। অর্থাৎ উনাকে সারাদিনের জন্যই ভাড়া করে নিলাম ১৩০০ টাকায়।

রাতারগুল জলাবন সিলেট
রাতারগুল

বিছানাকান্দির উদ্দেশ্যে এয়ারপোর্ট রোড ধরে যাওয়ার সময় আশেপাশের চা বাগানের দৃশ্য মন ভরিয়ে দেবে। দেখা যাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন মালনিছড়া চা-বাগান। এ সৌন্দর্য কিছুতেই ক্যামেরায় বন্দি করা সম্ভব না! এয়ারপোর্টে রোড পেরিয়ে সালুটিকর রোড ধরে কিছুদূর এগোনোর পর গোয়াইন নদী অতিক্রম করে মহাসড়ক থেকে ডানদিকে গোয়াইনঘাট রোডে ঢুকে পড়বে সিএনজি। মনে হবে আরেক সৌন্দর্যের জগতে গিয়ে পড়েছেন। প্রথমদিকে রাস্তা খুব ভালো এবং আশেপাশের দৃশ্যও মনোমুগ্ধকর। কিন্তু কিছুদূর যেতেই আনন্দে ভাঁটা পড়বে, রাস্তার অবস্থা খুবই করুন, খানা-খন্দে ভরপুর। অনিচ্ছাকৃতভাবেই আপনাকে সিএনজির ভেতর বসে নাচতে নাচতে গোয়াইনঘাট যেতে হবে।

প্রায় ১০:৩০ টার দিকে আমরা গোয়াইনঘাট পৌঁছাই। এখান থেকে বোট ভাড়া করতে হবে বিছানাকান্দি যাওয়ার জন্য। এখানেও সিন্ডিকেট। ১১০০ এর নিচে বোট যেতেই চাইবে না, আমরা ১০৫০ এ ঠিক করেছি। আপনার গ্রুপে যদি মানুষ কম থাকে, তাহলে আপনার উচিত হবে গোয়াইনঘাট আসার পূর্বেই কোনোরকম ১০ জনের কাছাকাছি মানুষ ঠিক করা, কেননা কাজটা আপনি গোয়াইনঘাট গিয়ে করতে পারবেন না, সিন্ডিকেটের জন্য। আমরা উপায়ান্তর না দেখে ৫ জনেই একটা বোট নিয়ে নিলাম।

বিছানাকান্দির ক্ষেত্রে প্রকৃত আনন্দটা পাবেন বোটে বসে যাওয়ার সময়। এসময় যে প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখবেন, তা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আপনার এক্সপেকটেশন বা প্রত্যাশা যদি খুব বেশী না থাকে, তাহলে বিছানাকান্দির মূল পয়েন্ট, অর্থাৎ পানির ধারাতে গিয়েও বেশ মজা পাবেন। কিন্তু আপনার যদি ভোলাগঞ্জ যাওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে ভোলাগঞ্জ যাওয়ার পর বিছানাকান্দির কথা ভুলে যাবেন। অবশ্য আমার এভাবে বলা উচিত না, কেননা, একেকটা প্লেইসের আবেদন একেকরকম। আর বললামই তো, বিছানাকান্দি যাওয়ার রাস্তাটার ভিউ সেরা, এটার স্বাদ অন্য কোথাও পাবেন না।

বোট থেকে নেমেই বিছানাকান্দির মূল পয়েন্টটা। এখানেই দেখবেন মানুষ পানির স্রোতে গা ভেজাচ্ছে। যতই গভীরে যেতে থাকবেন, পানির স্রোত ততই বাড়তে থাকবে, একসময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন না। এখানকার পানি অনেক স্বচ্ছ। আমরা যখন গেছি, তখন পানি বাড়তির দিকে এবং সামনের দিনগুলোতে আরো বাড়বে। ফলে গিয়ে মজা পাবেন। 
জাফলং এর তুলনায় বিছানাকান্দিতে ফটোগ্রাফাররা তুলনামূলক অনেক নির্ভরযোগ্য ও আন্তরিক। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই, ফলে প্রতারণার সম্ভাবনাও কম। আমরা কমবয়সী (সদ্য এইচ.এস.সি. পরীক্ষা দেওয়া) এক লোকাল ছেলেকে হায়ার করলাম। আমাদের এক বন্ধু দরকষাকষিতে মোটামুটি দক্ষ। সে প্রথমে ছবি প্রতি ৪ টাকা করে ঠিক করলো। ফটোগ্রাফার মোট ২০০+ ছবি তুলেছিলো। তাকে আমার বন্ধুটি বুঝিয়ে বললো, আমরা যদি ২০০ ছবির মধ্যে বাছাই করি, তাহলে ৭০-৮০ টা সিলেক্ট করতে পারি, বাকিগুলো ডিলিট করে ফেলতে হবে এবং সে (ফটোগ্রাফার) ৩০০+ টাকা পাবে। এরচেয়ে বরং সবগুলো ছবি সে আমাদের দিয়ে দিক, আমরা ৪০০ টাকা দিই। ফটোগ্রাফার চিন্তা করে দেখলো এতে তারও লাভ, আমাদেরও লাভ, সে খুশিমনেই রাজি হলো। আমরা তাকে বকশিশ সহ ৪৩০ টাকা দিলাম। জাফলং-এ এই বিষয়টা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না!

ভোলাগঞ্জ সিলেট

অবশেষে অনেকক্ষণ বাচ্চাদের মতো পানিতে লাফালাফি-ঝাঁপাঝাপি করে উঠলাম এবং প্রায় ১:৩০ মিনিটে গোয়াইনঘাট ফেরত আসলাম। সিএনজিতে চেপে বসলাম, সিএনজি আবার মহাসড়কে ফিরে এসে পুনরায় গোয়াইন নদী পেরিয়ে কিছুদূর পিছনে ফিরে এলো। এরপর এয়ারপোর্ট রোডের কাছাকাছি এসে বামপাশের একটি পার্শ্বরাস্তায় প্রবেশ করলো; এটাই রাতারগুল যাওয়ার রাস্তা। অর্থাৎ, বিছানাকান্দি যাওয়ার সময় আমরা মহাসড়ক ধরে রাতারগুলের রাস্তা পেরিয়ে আরো কিছুটা সামনে চলে গিয়েছিলাম। রাতারগুলের রাস্তায় প্রবেশের পর নৌকাঘাটে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পুরোটা রাস্তায় গ্রামের ছোঁয়া পাবেন। তবে রাস্তা তেমন খারাপ না।

আমরা আনুমানিক ৪ টার একটু আগে/পরে রাতারগুল নৌকাঘাটে গিয়ে পৌঁছাই। সেখানেও সিন্ডিকেট আছে, তবে দরকষাকষির সুযোগ পাবেন। এখানে কেউ কেউ ৩ টা স্পট বা হেনতেন বোঝানোর চেষ্টা করবে আপনাকে, ভাড়া বেশী রাখার জন্য। কিন্তু আপনি যতো দিয়েই বোট ভাড়া করেন না কেন, আপনাকে পুরোটাই ঘুরে দেখাবে, আলাদা করে ৩/৪ টা স্পট বলে কোনো কথা নেই। আমরা পাঁচজন বলে তুলনামূলক ছোট একটা বোট নিয়েছিলাম, ভাড়া ১১০০ টাকা। বোটের গরীব মাঝি এই টাকার সামান্য একটা অংশই পায়, বেশীরভাগটাই মালিক নিয়ে যায়। আমরা মাঝিকে ১০০ টাকা বকশিশ দিয়েছি। ঘাট থেকে বোট ছাড়ার পরপরই আপনি অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতায় ডুবে যাবেন। এমনিতেই রাতারগুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য তো আপনাকে মুগ্ধ করবেই, সেইসাথে এই সুনশান নীরবতার কারণে আপনার একটা কথাই মনে হবে, “কেন আরো আগে এত সুন্দর প্রকৃতির সান্নিধ্যে এলাম না!”

রাতারগুলে রয়েছে প্রায় পাঁচ তলার সমান উঁচু একটি ওয়াচ-টাওয়ার। টাওয়ারের উপর থেকে গোটা এলাকার এক অপূর্ব ভিউ পাওয়া যায়। ওয়াচ-টাওয়ারে উঠে আবারও মনটা প্রফুল্ল হয়ে উঠলো। উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, রাতারগুলে পানি উত্তপ্ত থাকে এবং পরিবেশও বেশ গরম থাকে, তাই ছাতা/ক্যাপ বা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এবার ফেরার পালা। প্রায় সাড়ে পাঁচটার দিকে ঘাটে ফিরে এসে সিএনজিতে উঠলাম। আমাদের ভাগ্য ভালোই বলতে হবে, আমাদের সিএনজি-চালক খুবই আন্তরিক ও বন্ধুসুলভ লোক। সন্ধার হতে আরো কিছু সময় বাকী বলে তিনি আমাদেরকে সিলেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন চা বাগানে নিয়ে গেলেন, যদিও সেখানে বেশীক্ষণ থাকিনি, তবুও ভালো লাগলো যে, একই দিনে অন্তত তিনটা প্লেস কাভার করতে পেরেছি।

সিএনজি চালকের আন্তরিক ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে আমরা তাকে অফার করলাম, পরদিন ভোলাগঞ্জ নিয়ে যাওয়ার জন্য। প্রথমে আপত্তি করলেও শেষপর্যন্ত তিনি একই ভাড়ায়, অর্থাৎ ১৩০০ তে আমাদেরকে ভোলাগঞ্জ নিয়ে যেতে রাজি হলেন। একদম কাটায় কাটায় সন্ধায় আমরা আবার ফিরে এলাম আম্বরখানায়। এই দিনটার সমাপ্তি এখানেই।

৩য় দিন – সাদাপাথর ও ভোলাগঞ্জ

কেউ যদি ভোলাগঞ্জ ও বিছানাকান্দি উভয় জায়গায় যেতে চান, তাহলে আগে বিছানাকান্দি যাবেন। এমনটা বলছি না যে, একটা থেকে আরেকটা ভালো; দুইটার ফ্লেভার ভিন্ন। বিছানাকান্দি যাওয়ার সময় অসাধারণ ভিউ পাবেন, সেটা অন্যত্র পাবেন না। আর ভোলাগঞ্জে বিছানাকান্দির চেয়ে পানি বেশী। আমরা হোস্টেল থেকে বের হলাম ৮ টার মধ্যে। যথারীতি আম্বরখানায় এসে সকালের নাস্তা করলাম। সিএনজি গতকালকেরটাই ঠিক করা ছিল, চালককে ফোন দিতেই উনি চলে আসলেন। আবারও এগিয়ে চললাম এয়ারপোর্ট রোড ধরে। তবে এবারের গন্তব্য অনেকদূর৷ এবার আর মেইনরোড থেকে নেমে বাইরোড ধরা হবে না, একদম ভোলাগঞ্জ গিয়েই নামা হবে। দেড় ঘন্টার মতো সময় নিয়ে আমরা পৌঁছে গেলাম কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে। যাওয়ার রাস্তাটার কয়েক জায়গায় কাঁচা ও সংস্কার কাজ চলছে। তবে বেশীরভাগটাই ভালো, আরাম করে সিএনজিতে বসে থাকা যায়।

ভোলাগঞ্জ এলাকাটা ভারতের সীমানার একদম কাছাকাছি; সিএনজি যখন নৌকাঘাটে যাবে, তখন দেখতে পাবেন ১০-১২ কদম দূরেই ভারতের মাটি। যারা কখনো বিদেশ যাননি, তাদের কাছে অন্যরকম অনুভূতি হবে, মনে হবে এই পৃথিবীর দেশগুলোর সীমানা বড়ই কৃত্রিম, আজব ও বেমানান একটা জিনিস। ঘাটে গিয়ে নৌকা ভাড়া করলাম, সীমানার ওপারের পাহাড়গুলো এখান থেকেই বেশ বড়সড় দেখাচ্ছে। আমরা বোটে চেপে বসলাম। বোট ভাড়া ৮০০, কিন্তু দূরত্ব খুবই সামান্য। বিছানাকান্দির বোটে ১১০০ ভাড়া দিলেও সেটা পুষিয়ে যায়, কিন্তু ভোলাগঞ্জের এই ৮০০ টাকার ভাড়াটাকে রীতিমতো ডাকাতি মনে হয়! কিন্তু কিছুই করার নেই, কারণ ওই যে, সিন্ডিকেট…তাই সম্ভব হলে অন্য কোনো গ্রুপের সাথে মিলে মোট ৮-১০ জনের দল গঠন করুন, ঘাটে আসার পূর্বেই। অন্তত ক্ষতিটা কম হবে।

সাদাপাথর ভোলাগঞ্জ সিলেট
সাদা পাথর, ভোলাগঞ্জ

ভোলাগঞ্জের বিষয়ে আমার এক্সপেকটেশন ছিল অনেক কম, ভেবেছিলাম, মোটামুটি একটা প্লেইস, তবে না দেখে যাওয়া উচিত হবে না। কিন্তু বোটে চড়েই আমার ভুল ভাঙলো, এখানকার পানি সেইন্ট-মার্টিনের সমুদ্রের পানির মতোই নীল! অনেক স্বচ্ছও বটে। এখানেও বোট থেকে সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়, তবে বিছানাকান্দি যাওয়ার পথের মতো এই পথটা এতো দীর্ঘ নয়; দেখতে দেখতে চলে এলাম সাদাপাথর। নৌকা তীরে ভিড়ার বেশ খানিকটা আগেই কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানির নিচে সব দেখা যাবে, অপরূপ সেই দৃশ্য! আনুমানিক ১১:৩০ মিনিটে আমরা সাদাপাথর ল্যান্ড করলাম। এসে দেখি এখানকার পাথরের উপর দিয়েই গড়িয়ে চলেছে নীলচে পানি; পানির নীল রঙের উৎস বুঝলাম। তবে এখানে স্রোত কম, তাই আরও সামনে এগিয়ে যেতে থাকলাম, যেখানে স্রোত বেশী। রোদে পাথর বেশ গরম হয়ে থাকে, তাই পানির ধারার পাশ দিয়ে চলতে লাগলাম যেন মাঝেমধ্যে পা টা একটু ভিজিয়ে নিতে পারি, নয়তো সিদ্ধই হয়ে যাবে পা!

সামনে এগিয়ে আমি হতবাক, এত পানি- এত স্রোত এখানে, চিন্তাও করতে পারিনি। বিছানাকান্দির মতোই স্বচ্ছ পানি। তবে নীলচে রঙ। সাদাপাথর জায়গাটা বেশ বিস্তৃত, সে তুলনায় বিছানাকান্দিকে অনেক সংকীর্ণ মনে হবে। অথচ এই ভোলাগঞ্জকেই অপশনাল হিসেবে রেখেছিলাম, কি মিসটাই না করতাম! এত স্রোত দেখে মাথা ঠিক রইলো না, এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লাম স্রোতের মাঝে। প্রবল স্রোতে গা ভাসিয়ে দুর্বার গতিতে ভেসে যাওয়ার মজাই আলাদা। তবে কাজটা অনেক বিপজ্জনক। টিউব ছাড়া কাজটা করা উচিত না। আমরা টিউব পাইনি। টিউব প্রয়োজন হলে বোট থেকে নেমে সামনে এগুনোর সময় বামপাশে একটা দোকান পড়বে, সেখান থেকে ২০০ টাকা/ঘন্টা দরে নিয়ে নিতে পারেন। এরপর ইচ্ছামতো ঝাঁপাঝাপি করেন, মোটামুটি সেইফ থাকবেন। এখানেও ফটোগ্রাফারদের সিন্ডিকেট নেই, দরকষাকষি করে ভাড়া করতে পারবেন।

উৎমাছড়া যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু হাতে সময় ছিল না; বিকাল পেরিয়ে সন্ধায় এক আত্মীয়ের বাসায় দেখা করে রাত ৯:২০ মিনিটে চট্টগ্রামের ট্রেন ধরতে হবে। তাই ভীষণ প্রিয় নীলচে পানির স্রোতকে বিদায় জানিয়ে দুপুর ১:৩০ মিনিটে বোটে চেপে বসলাম, নৌকাঘাটে গিয়ে সিএনজিতে করে ঘরে ফিরতি পথ ধরার জন্য। পেছনে সাদাপাথর, নীলচে পানির ধারা, সীমান্ত আর পাহাড়গুলো আমার দিকে তাকিয়ে রইলো, আমিও চেয়ে রইলাম তাদের দিকে। মনে মনে বললাম, “আবার ফিরে আসবো, মন খারাপ করো না” 

সিলেট ভ্রমণ খরচ

আমরা বন্ধুর হোস্টেলে থাকায় আমাদের হোটেল খরচ অনেকটাই বেঁচে গেছে। আমরা কড়ায়গন্ডায় হিসাব করে রাখিনি যে কোথায় কত খরচ গেছে। প্রথমে সবার কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছে এবং পরবর্তীতে মোট খরচকে সবাই ভাগ করে নিয়েছি। তবুও আপনাদের খরচের একটা ধারণা দিচ্ছি।

১ম দিন জাফলং যাওয়ার সময় সকালের নাস্তা + দুপুরের জন্য হালকা খাবার + পানি + জাফলং যাওয়ার লেগুনা ভাড়া + নৌকা পারাপার + লেগুনায় করে শহরে ফিরে আসার ভাড়া বাবদ জনপ্রতি ৩৬৬ টাকা করে গেছে। যার যার ব্যক্তিগত খরচ হিসাবের বাইরে। যেমন- ছবি তোলা, কেনাকাটা করা ইত্যাদি।

২য় দিন সকালের নাস্তা + সিএনজি রিজার্ভ + দুপুরের জন্য হালকা খাবার + পানি + বিছানাকান্দির বোট ভাড়া + রাতারগুলের বোট ভাড়া – এগুলো সব মিলিয়ে জনপ্রতি ৮৪৪ টাকা করে খরচ হয়েছে। ব্যক্তিগত খরচ হিসাবের বাইরে।

৩য় দিন সকালের নাস্তা + দুপুরের হালকা নাস্তা + পানি + সিএনজি রিভার্জ + সাদাপাথর যাওয়ার বোট ভাড়া- এসব মিলিয়ে খরচ গেছে জনপ্রতি ৫৫০ টাকা করে। ব্যক্তিগত খরচ হিসাবের বাইরে।

অর্থাৎ তিনদিনে শুধু ট্যুরের পেছনে আমাদের পাঁচজনের জনপ্রতি খরচ গেছে ১৭৬০ টাকা। আপনারা সংখ্যায় ১০ জনের গ্রুপ নিয়ে আসলে শুধু ট্যুরের খরচটা আরো কমবে। তবে অতিরিক্ত খরচ হবে থাকার পেছনে আর রাতের খাবারের পেছনে। আর সিলেট শহরের ভেতর ঘোরাঘুরির ক্ষেত্রে সামান্য গাড়ি/সিএনজি ভাড়ার ব্যাপার-স্যাপার আছে।

আমাদের সিএনজি চালক ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক, সহজ-সরল এবং বিনয়ী একজন লোক। উনাকে হায়ার করে কোথাও যাওয়ার পথে রাস্তার মাঝে কোনো স্পটে আপনি নামতে চাইলে বা ছবি তুলতে চাইলে কিংবা একটু ঘুরে দেখতে চাইলে উনি বিরক্ত হবেন না, বরং নিজ থেকেই আগ্রহের সহিত সাহায্য করবেন। আমরা সাদাপাথর যাওয়ার সময় উনাকে বোটে করে নিয়ে গেছিলাম, কেননা উনি আগে কখনো সাদাপাথর যান নাই। প্রথমদিনে উনার ভাড়া ১৩০০ টাকাই পরিশোধ করা হয়েছিল। দ্বিতীয়দিন ১৩০০ এর সাথে দুইদিনের জন্য উনাকে আরো ২০০ টাকা বকশিশ দিয়েছিলাম আমরা। উনার আচার-ব্যবহার ভালো লাগলে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আপনিও বকশিশ দিতে পারেন।
সিলেট ঘুরতে গেলে প্রয়োজনে উনার সাথে ফোনে যোগাযোগ করে বিস্তারিতভাবে কথা বলে উনাকে হায়ার করতে পারেন। রবিউল ভাই (সিএনজি চালক) – ০১৭৫৩-৯৫৬৭৬৮ (সম্ভব হলে রাতে ফোন দেবেন, ৯-১০ টার দিকে)

সতর্কতা

বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ট্যুরিস্ট পুলিশের নাম্বার সাথে রাখুন। যেকোনো ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হলে বা প্রতারণার শিকার হলে ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছ থেকেই সবচেয়ে দ্রুত রেসপন্স পেতে পারেন। সিলেট শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যানারে ট্যুরিস্ট পুলিশের নাম্বার ও নির্দেশনা দেওয়া আছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, সিলেট জোন – ০১৭৬৯-৬৯০৭২০

পরিচ্ছন্নতা

যে স্পটগুলোতে গেলাম আমরা, তার সবগুলোতেই কমবেশী পানি আছে এবং পানির ধারা ভারত থেকে নেমে এসেছে। খেয়াল করলে দেখবেন সীমান্তের ওপার থেকে পরিষ্কার স্বচ্ছ পানিই আসছে এখানে, কিন্তু আমরা এটাকে দূষিত করে ফেলছি। জাফলং এর মাটি-পানি দুইটাই প্যাকেট-বোতলে ভরপুর, যেন আমরা চিপস-কোক বা নাস্তা খাওয়ার জন্যই জাফলং যাই। বোটে বসে ওয়ান-টাইম প্যাকেটগুলোতে করে বিরিয়ানী খেয়ে প্যাকেট ছুঁড়ে মারছি পানিতে।

ভোলাগঞ্জেও একই চিত্র। যদিও রাতারগুলে ময়লা-আবর্জনা কম দেখেছি, কিন্তু তবুও পাইনি যে, তা নয়। আমরা কলার বাকল, কেক-বানের প্যাকেট, পানির বোতল যে পলিথিনে করে নিয়ে গেছি, সেটাতে করেই ফেরত এনেছি। কাজটা মোটেও কঠিন কিছু না। আমি, আপনি ও আমরা পর্যটন স্পটগুলোতে গিয়ে পরিচ্ছন্নতার নিদর্শন স্থাপন করতে থাকি, তাহলে এটা দেখে অন্তত একজন হলেও লজ্জা পাবে, দায়সারাভাবে ঢিল ছুঁড়ে ময়লা ফেলতে গিয়ে তার একটু হলেও বাঁধবে। আমাদের পর্যটন সম্পদগুলো রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে।

এইখানে ক্লিক করে ইউটিউবে দেখে নিতে পারেন ট্যুরের আরো কিছু ভিডিও নিয়ে বানানো প্লে-লিস্ট।

লেখক: Al Amin Shuvo
ছবি কৃতজ্ঞতা: Razaul Islam Shajib

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।